• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক আবেদিত
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
Chattogram Barta24
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারাদেশ
  • বিশ্ব
  • অর্থনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • সাক্ষাৎকার
  • মতামত
কোন ফলাফল নেই
সব ফলাফল দেখুন
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারাদেশ
  • বিশ্ব
  • অর্থনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • সাক্ষাৎকার
  • মতামত
কোন ফলাফল নেই
সব ফলাফল দেখুন
কোন ফলাফল নেই
সব ফলাফল দেখুন
প্রচ্ছদ মতামত

নীরব বিপ্লব: মনুষ্যত্বের সংকটে আমাদের প্রযুক্তিনির্ভরতা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ২৩ ২০২৫, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ
অ- অ+
গল্প: চিঠি আসেনি

আসিফ মাহমুদ

0
শেয়ার
0
দেখেছে
Share on FacebookShare on Twitter

আসিফ মাহমুদ: বিশ্ব যখন প্রযুক্তির শিখরে উঠেছে, তখন এক অদৃশ্য বিপ্লব আমাদের চিন্তা-চেতনাকে গোপনে রূপান্তর করছে। এই বিপ্লবের নাম ‘নীরব প্রযুক্তিনির্ভরতা’। আমরা এতটাই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছি যে, ধীরে ধীরে আমরা হারিয়ে ফেলছি আমাদের মানবিক অনুভব, আত্মসংযোগ ও আত্মবিশ্বাস। এই প্রবন্ধে আমি প্রযুক্তির আশীর্বাদ নয়, বরং তার ব্যবহারের অতিমাত্রায় যে মানসিক ও সামাজিক বিপর্যয় তৈরি হচ্ছে, তা নিয়েই আলোচনা করব।

প্রযুক্তি এসেছে আমাদের জীবনকে সহজ করতে, কিন্তু আমাদের সামাজিকতা ও মানবিক সম্পর্ককে সহজ করেছে কি? উত্তরটা জটিল। প্রযুক্তির প্রবল ব্যবহার যেমন আমাদের বিশ্বজোড়া সংযোগের সুযোগ এনে দিয়েছে, তেমনি দূরত্ব তৈরি করেছে খুব কাছের মানুষের সঙ্গে। একসময় বিকেলে বাড়ির উঠোনে গল্প করার যে সংস্কৃতি ছিল, এখন তা বদলে গেছে ফোন স্ক্রিনে ব্যস্ত সময় কাটানোতে। মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বলার মতো কথা এখন ইনবক্সে আটকে যায়। আমরা বলি, সময় নেই- কিন্তু স্ক্রল করার সময় আছে।

এই অবস্থাকে শুধু প্রযুক্তির দোষ দিয়ে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। আসলে আমরাই তার ব্যবহারকে সঠিক পথে নিতে পারিনি। প্রযুক্তিকে আমরা উপকরণ হিসেবে ব্যবহার না করে, যেন নিজেকে তার দাসে পরিণত করেছি। এই মনোভাব আমাদের এক ধরণের ভার্চুয়াল বুদবুদের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে, যেখান থেকে বাস্তবতা প্রায় বিলুপ্ত।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আত্মসম্মানবোধের ক্ষয়। সোশ্যাল মিডিয়ার লাইকের সংখ্যায় এখন মানুষ নিজের মূল্য বিচার করে। কেউ যদি বেশি লাইক না পায়, তাহলে সে নিজেকে পিছিয়ে পড়া ভাবতে শুরু করে। এই মানসিকতা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে দিন দিন দুর্বল করে দিচ্ছে। অথচ আমাদের সমাজে এই বিষয়গুলো নিয়ে সচেতনতা অত্যন্ত কম। অনেকে এখনো মনে করেন মানসিক স্বাস্থ্য শুধু “পাগলের ব্যাপার”। অথচ প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে মন ও মস্তিষ্কের চাপ আমাদের নীরব আততায়ীর মতো কাবু করে দিচ্ছে।

এখন প্রশ্ন হলো, এই সমস্যা সমাধানের পথ কী? আমি মনে করি, প্রথমেই আমাদের প্রয়োজন আত্মবিশ্লেষণ। আমরা কোন কোন জায়গায় প্রযুক্তিকে জীবনের উপকরণ না ভেবে জীবনের মূল মনে করছি, তা বুঝতে হবে। আমাদের প্রয়োজন ‘ডিজিটাল শিষ্টাচার’ নামের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে শেখা ও শেখানো। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি এটির সীমাবদ্ধতা, মানবিক মূল্যবোধ ও ভারসাম্যের গুরুত্ব শেখানো জরুরি।

দ্বিতীয়ত, পরিবারে শিশুকে শুরু থেকেই শেখাতে হবে ভারসাম্য। বই পড়া, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক রাখা, গল্পের মাধ্যমে আবেগ প্রকাশ- এসব মূল্যবোধ যদি ছোটবেলা থেকে গড়ে ওঠে, তাহলে সে প্রযুক্তিকে তার জায়গায় রাখতে শিখবে। একজন শিশু যদি শেখে যে ফোনের স্ক্রিনের বাইরে একটি জীবন্ত পৃথিবী আছে, তবে সে কখনোই একঘেয়ে ভার্চুয়াল জগতে আটকে যাবে না।

তৃতীয়ত, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে ডিজিটাল শিক্ষাকে একটি মানবিক রূপ দিতে হবে। শুধু সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট শেখালেই হবে না, শেখাতে হবে ডিজিটাল আচরণ ও সামাজিক ভারসাম্যও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারবিধি, গুজব শনাক্ত করার কৌশল ও ইন্টারনেট আসক্তির ঝুঁকি সম্পর্কে যুবসমাজকে সচেতন করতে হবে।

চতুর্থত, প্রতিটি নাগরিকের উচিত ব্যক্তিগতভাবে কিছু নিয়ম মেনে চলা। যেমন- সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট সময় ফোন ছাড়া পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, প্রতিদিন কিছু সময় প্রকৃতির সঙ্গে থাকা অথবা অন্তত সপ্তাহে একদিন ‘ডিজিটাল ডিটক্স ডে’ পালন করা। আমরা যদি নিজেরাই ছোট ছোট নিয়ম তৈরি করে অনুসরণ করি, তাহলে একসময় এই প্রবণতা সমাজে ছড়িয়ে পড়বে।

আমি মনে করি, আগামী দিনের সবচেয়ে বড় বিপ্লব হবে প্রযুক্তির মাঝে মনুষ্যত্বকে টিকিয়ে রাখার বিপ্লব। এটা হবে না অস্ত্র দিয়ে, হবে না কোনো রাজনৈতিক স্লোগানে। হবে নীরবভাবে, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি, পরিবার থেকে সমাজে। এই বিপ্লব শুরু করতে হলে আগে নিজেকে জানতে হবে, বুঝতে হবে কোন দিকে এগোচ্ছি এবং কেন এগোচ্ছি।

আমরা যদি প্রযুক্তিকে উপভোগ করতে গিয়ে মানবিকতা হারিয়ে ফেলি, তাহলে একসময় আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। মানুষ থাকবে, কিন্তু মানবিকতা থাকবে না। সেই দিন পৃথিবী হবে কৃত্রিমতায় মোড়ানো এক বিষণ্ন গ্রহ, যেখানে সুখ থাকবে ডিজিটাল পর্দায়, কিন্তু হৃদয়ে নয়।

তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে এই নীরব বিপ্লবের সৈনিক হই- যেখানে প্রযুক্তি থাকবে, কিন্তু তাতে আমরা হারিয়ে যাব না। আমরা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করব, কিন্তু নিজেরা তার দ্বারা ব্যবহার হব না। আমরা হ্যান্ডসেট ধরব, কিন্তু হৃদয়ের সংযোগ হারাব না। এই হচ্ছে মানবিক প্রযুক্তি যুগের প্রতিজ্ঞা- যেখানে আমরা মানুষ থাকব এবং মানুষ হিসেবেই বাঁচব।

লেখক: শিক্ষার্থী, উত্তর কাট্টালী আলহাজ মোস্তফা হাকিম কলেজ, চট্টগ্রাম।

ShareTweetShare

আরও পড়ুন

জাহাজভাঙা শিল্পে বেড়েছে দুর্ঘটনা
অর্থনীতি

জাহাজভাঙা শিল্পে বেড়েছে দুর্ঘটনা

শতভাগ ডেডিকেটেড নিউরোসার্জারি অপারেশন থিয়েটারের বিকল্প নেই : ডা. ইসমাঈল
লীড-২

শতভাগ ডেডিকেটেড নিউরোসার্জারি অপারেশন থিয়েটারের বিকল্প নেই : ডা. ইসমাঈল

চিকিৎসায় অবহেলায় রাইফার মৃত্যু: ম্যাক্স হাসপাতালের চার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট
চট্টগ্রাম

ম্যাক্স হাসপাতালে সাংবাদিককন্যা রাইফার মৃত্যু, আট বছরেও শেষ হয়নি বিচার

আইসিএবি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন
অর্থনীতি

আইসিএবি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি
অর্থনীতি

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি

সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সহনশীলতায় গুরুত্ব দিয়ে শেষ হলো ফিনিক্স সামিট ২০২৬
তথ্যপ্রযুক্তি

সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সহনশীলতায় গুরুত্ব দিয়ে শেষ হলো ফিনিক্স সামিট ২০২৬

পুরোনো সংখ্যা

সর্বশেষ

জাহাজভাঙা শিল্পে বেড়েছে দুর্ঘটনা

জাহাজভাঙা শিল্পে বেড়েছে দুর্ঘটনা

শতভাগ ডেডিকেটেড নিউরোসার্জারি অপারেশন থিয়েটারের বিকল্প নেই : ডা. ইসমাঈল

শতভাগ ডেডিকেটেড নিউরোসার্জারি অপারেশন থিয়েটারের বিকল্প নেই : ডা. ইসমাঈল

চিকিৎসায় অবহেলায় রাইফার মৃত্যু: ম্যাক্স হাসপাতালের চার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট

ম্যাক্স হাসপাতালে সাংবাদিককন্যা রাইফার মৃত্যু, আট বছরেও শেষ হয়নি বিচার

আইসিএবি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন

আইসিএবি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি

সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সহনশীলতায় গুরুত্ব দিয়ে শেষ হলো ফিনিক্স সামিট ২০২৬

সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সহনশীলতায় গুরুত্ব দিয়ে শেষ হলো ফিনিক্স সামিট ২০২৬

ডেভ কেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে হৃদরোগের ঝুঁকি নির্ণয় কার্যক্রম উদ্বোধন

ডেভ কেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে হৃদরোগের ঝুঁকি নির্ণয় কার্যক্রম উদ্বোধন

আব্দুল গফফার মিয়াজী রিহ্যাবের পরিচালক নির্বাচিত

রিহ্যাবের সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান হলেন গাফ্ফার মিয়াজী

চট্টগ্রামে শিগগিরই ক্লাইম্বিং স্কুল প্রতিষ্ঠা হবে : সাঈদ নোমান

চট্টগ্রামে শিগগিরই ক্লাইম্বিং স্কুল প্রতিষ্ঠা হবে : সাঈদ নোমান

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উদ্বোধন

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উদ্বোধন

cbarta24


সম্পাদক: মোহাম্মদ রুবেল খান
প্রকাশক: আবুল হোসাইন মো.কাউছার
যোগাযোগ
শাহী টাওয়ার (২য় তলা) এন.এ. চৌধুরী রোড, আন্দরকিল্লা, চট্টগ্রাম।
০১৮৫১ ২১৪ ৭৪৭
cbartanews@gmail.com
কোন ফলাফল নেই
সব ফলাফল দেখুন
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারাদেশ
  • বিশ্ব
  • অর্থনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • সাক্ষাৎকার
  • মতামত

© ২০২২-২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত সিবার্তা ২৪

This website uses cookies. By continuing to use this website you are giving consent to cookies being used. Visit our Privacy and Cookie Policy.