চট্টগ্রাম : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। এই খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি, খামারিদের উৎপাদন ব্যয় কমানো, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং রপ্তানি আয় বাড়াতে কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।’
শুক্রবার (২ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা কর্মকর্তাগণের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সভায় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের মানুষের অন্যতম প্রধান প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস হচ্ছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এ খাতকে রপ্তানিমুখী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের আরও সুযোগ রয়েছে। এ জন্য খামারি, উৎপাদক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।’
‘দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমাতে হবে। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।একটি পুকুরে কতটুকু মাছ চাষ করা সম্ভব, মাছের ধারণক্ষমতা কত এবং পানিতে অক্সিজেনের ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখতে হবে—এসব বিষয়ে অনেক প্রান্তিক খামারি পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন না। কর্মকর্তারা নিয়মিত খামারিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও মতবিনিময় করলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে।’
পোল্ট্রি খাত প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘খামারে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। খামারের পরিচ্ছন্নতা, জীবাণুনিয়ন্ত্রণ, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং মানসম্মত খাদ্য ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রাণিসম্পদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উন্নতমানের ফিড সরবরাহ ও ফিডের মান তদারকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে একদিকে ভোক্তারা নিরাপদ খাদ্য পাবেন, অন্যদিকে খামারিরাও উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে লাভবান হতে পারবেন।’
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘দেশীয় উৎপাদন দিয়ে কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণ করার সক্ষমতা বাংলাদেশ অর্জন করেছে। পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত মাংস বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের অবকাঠামো উন্নত করা গেলে ভবিষ্যতে রপ্তানির পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।’
সালাউদ্দিন টুকু উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে ১৩টি মিট প্রসেসিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের সুবিধা আরও কার্যকর করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের মাংসের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, ক্ষুদ্র মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খামারিদেরও কৃষক কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে খামারিরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধা, উৎপাদন উপকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হলে খামারিরা আরও কার্যকরভাবে উৎপাদন করতে পারবেন। বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর আন্তর্জাতিক মান, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।’
















