হাটহাজারী, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে নবীন বরণ, বিদায় সংবর্ধনা ও সাধারণ শিক্ষা সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে চবির বোটানিক্যাল গার্ডেন প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চবির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চবির উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. গোলাম কিবরিয়া। অতিথি ছিলেন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. এম. আবদুল গফুর ও প্রফেসর ড. মো. আতিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. কাজী মোহাম্মদ মেজবাউল আলম।
মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, ‘আমি উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের একজন সাবেক শিক্ষার্থী এবং আমার কর্মজীবন শুরু হয়েছিল এ বিভাগের শিক্ষকতার মাধ্যমে। এ বিভাগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে।’
তিনি উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরে স্মৃতিচারণ করেন। বিভাগের তৎকালীন শিক্ষকদের অবদান তুলে ধরেন।
উপাচার্য তার পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন এবং চবিতে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের পথচলা সম্পর্কে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে শিক্ষক শিক্ষক, শিক্ষার্থী শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। আগের মতো সেই সুসম্পর্ক, হৃদ্যতার সম্পর্ক নেই।’
মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সবাইকে আন্তরিকতা ও সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
উপাচার্য নবীনদের অভিনন্দন জানান এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিদায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য শুভ কামনা জানান।
মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, ‘নতুন সেশনে ওবিই কারিকুলামে সেমিস্টার পদ্ধতিতে পাঠদান শুরু হবে আগামী ৩ মে থেকে। এটা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি বৈপ্লবিক ঘটনা।’
নতুন কারিকুলামে পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান।
শামীম উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তোমরা এ জায়গায় এসেছো, সেজন্য কাঙ্খিত ফলাফল তোমাদের অর্জন করতে হবে।’
বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে কর্মক্ষেত্রে সর্বদা নৈতিকতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, তোমরা এ বিভাগের এম্বাসাডর, তোমাদের সাথে এ বিভাগের তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান জড়িয়ে আছে।’
মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘উদ্ভিদবিজ্ঞান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ। বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এ বিভাগের অবদান রয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুনভাবে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রেও এ বিভাগের ভূমিকা রয়েছে।’
তিনি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন ও শুভ কামনা জানিয়ে বলেন, ‘নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলো। আগামী দিনে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেকে সমৃদ্ধ করো। তোমাদের মাধ্যমে এ বিভাগের সুনাম বৃদ্ধি পাবে।’
বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারহানা রুমঝুম ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিভাগের তিন বিদায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উপহার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সাধারণ শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।
















