চট্টগ্রাম : নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে মাসব্যাপী নালা-নর্দমা পরিস্কার কার্যক্রম জোরদার করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচালিত ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ সরেজমিনে তদারকি করেছেন চসিকের মেয়র শাহাদাত হোসেন।
সকালে প্রথমে তিনি ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডের জেএম সেন স্কুলের পেছনে অবস্থিত বান্ডেল খাল এলাকায় চলমান পরিস্কার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরে পর্যায়ক্রমে ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ডের বদর খালি খাল (ইসলাম কলোনী) এবং ৩৫ নম্বর বক্সিরহাটা ওয়ার্ডের দক্ষিণ মধ্যম পীতম্বরশাহ এলাকায় নালা-নর্দমা পরিষ্কার কার্যক্রমে অংশ নেন।
পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, ‘নগরীর বিভিন্ন স্থানে নালা-নর্দমা ময়লার স্তুপে পরিণত হয়েছে, যা জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কিছু অসচেতন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় ব্যক্তি যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলে নালাগুলোকে কার্যত বর্জ্য ফেলার কেন্দ্রে পরিণত করেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কোনো উদ্যোগই টেকসই হবে না।’
‘জনগণকে সচেতন না করতে পারলে এই কর্মসূচি শতভাগ সফল করা সম্ভব নয়। এই শহর আমাদের সবার—এ শহরের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। নিজ নিজ দোকান ও বাসার জন্য আলাদা ডাস্টবিন রাখতে হবে এবং নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলতে হবে।’
ডাস্টবিন চুরি হওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে মেয়র স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে তদারকির আহ্বান জানান।
এ সময় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন মেয়র। তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন কর্মীরা শহরের নীরব যোদ্ধা—তাদের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম অগ্রাধিকার।’
বর্তমানে অনেক কর্মী অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে বসবাস করছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘তাদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
প্রকল্প সংশোধন অনুযায়ী, মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৯ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার টাকা, যা পূর্বের ২৩১ কোটি ৪২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা থেকে বেড়েছে। ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ২০২৩ সালের হালনাগাদ রেট সিডিউল ও পরামর্শকের নতুন নকশা অনুযায়ী নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণকে উল্লেখ করেন মেয়র।
তিনি জানান, স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বান্ডেল কলোনিতে নির্ধারিত দুইটি ভবনের একটি নির্মাণ সম্ভব না হওয়ায় সেটি ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ডে চসিকের নিজস্ব জায়গায় নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে মেয়র বলেন, ‘প্রকল্প এলাকায় বসবাসরত সেবকদের পুনর্বাসনে সময় লাগায় কাজ শুরুতে বিলম্ব হয়েছে। এ কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, এ প্রকল্পের আওতায় সাতটি ভবনে মোট ১ হাজার ৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে, যার প্রতিটির আয়তন প্রায় ৬০০ বর্গফুট। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিকল্পিত আবাসনে বসবাসের সুযোগ পাবেন, যা তাদের সামাজিক মর্যাদা ও কর্মস্পৃহা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে নগরীকে পরিষ্কার রাখছেন, তাই তাদের আবাসনসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা চসিকের দায়িত্ব।’
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, নির্বাহী প্রকৌশলী ফারজানা মুক্তা, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, মেয়রের একান্ত সহকারী (রাজনৈতিক) জিয়াউর রহমান জিয়া, মেয়রের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরী।
















