চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে সামাজিক সংহতি, সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নাগরিক সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা বর্তমান সমাজে সহমর্মিতা ও সুশাসনের ঘাটতি তুলে ধরে সম্মিলিত উদ্যোগ, সঠিক তথ্যপ্রবাহ ও গণতান্ত্রিক ধারার অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় ‘সামাজিক সংহতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নাগরিক সংগঠনের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক জেলা পর্যায়ের এ সভা।
স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন সংস্থা ইপসা ও রূপান্তরের যৌথ আয়োজনে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহযোগিতায় আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরিফ উদ্দিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দৈনিক প্রথম আলোর বার্তা সম্পাদক ওমর কায়সার।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন রূপান্তরের প্রোগ্রাম পরিচালক নজরুল ইসলাম বাচ্চু এবং ইপসার পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান। ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ইপসার হেড অব অ্যাডভোকেসি মো. আলী শাহীন।
সভায় বক্তারা বলেন, ‘দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও সংহতি বর্তমানে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সঠিক তথ্য উপস্থাপন এবং সরকারি-বেসরকারি ও নাগরিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।’
তারা জোর দিয়ে বলেন, ‘নানা ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও পেশার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠা ছাড়া টেকসই শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’
মো. শরিফ উদ্দিন বলেন, ‘সমাজে পারস্পরিক সহমর্মিতার অভাব রয়েছে। গুজব ছড়িয়ে পড়লেও আমরা তা যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি না। পরিবার থেকেই সংহতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।’
সহকারী কমিশনার (এনজিও সেল) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা রহমান মীম বলেন, ‘যাদের কণ্ঠ আমরা সামনে আনতে পারি না, তারাই গুজবের শিকার বেশি হন। তাদের কথা শোনার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।’
ইলমার প্রধান নির্বাহী জেসমিন সুলতানা পারু বলেন, ‘সমাজের শিক্ষিত মানুষদের মধ্যেও গুজব ছড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকেই এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।’
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ মহাপরিদর্শক মাহবুবুল হাসান বলেন, ‘তথ্য যাচাই করে শেয়ার করা জরুরি। গুজবের মাধ্যমে শ্রমিক-মালিক বিরোধ সৃষ্টি হতে দেওয়া যাবে না।’
রূপান্তরের প্রোগ্রাম পরিচালক শাহাদাত হোসেন বাচ্চু বলেন, ‘শান্তি ও সংহতি জোরদারে সিভিল সোসাইটির সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। সমাজের সব স্তরের মানুষের অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।’
মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তরুণদের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি। তাই তাদের সচেতন করাই সংহতি প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক ধাপ।’
মোহাম্মদ আলী শাহীন বলেন, দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গনতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা জরুরী। সকলের মতামতের ভিত্তিত সমাজ বিনির্মান করতে হবে।
উক্ত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিটার প্রোগ্রাম ম্যানেজার বাপ্পা চৌধুরী, বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক সারোয়ার কামাল, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সভাপতি দিলরুবা আক্তার, এডভোকেট মিলি চৌধুরী, ব্র্যাকের আঞ্চলিক প্রতিনিধি এনামুল হাসান, টিআইবির চট্টগ্রাম প্রতিনিধি তৌহিদুল ইসলাম, ব্যুরো বাংলাদেশের বিভাগীয় প্রধান আবদুস সালাম, চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার আঞ্জুমান বানু লিমা, ব্রাইট বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী উৎপল বড়ুয়া, ঘাসফুলের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সিরাজুল ইসলাম, তরুণ সংগঠনের প্রতিনিধি নোমান উল্লাহ বাহার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি রাতুল শেখ ও রঁদেভু শিল্পগোষ্ঠী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি জাল্লাং কুবি, এডাবের প্রতিনিধি আবু মো. ফোরকান, আপরাজয় বাংদেশের জিন্নাত আরা, স্বপ্নীল বাংলাদেশের নিবার্হী পরিচাল আলী সিকদার প্রমু।
সভায় বক্তারা সামাজিক সংহতি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় পারিবারিক শিক্ষা, নৈতিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ, মিডিয়া লিটারেসি এবং ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তরুণ প্রতিনিধিরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বশীল আচরণ এবং বিভিন্ন বয়স ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সংহতি বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
















