অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ছে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ জারি থাকায়। গতকাল সোমবারের (১৬ মার্চ) তুলনায় আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য বড়েছে তিন শতাংশেরও বেশি।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দুই ব্র্যান্ড ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)—উভয়েরই দাম বেড়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হচ্ছে ১০৩ দশমিক ২৮ ডলারে এবং ডব্লিউটিআই প্রতি ব্যারেল বিক্রি হচ্ছে ৯৬ দশমিক ৮৫ ডলারে। গতকাল সোমবারের তুলনায় আজ মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম (ব্যারেলপ্রতি) ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম (ব্যারেলপ্রতি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষক বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, বাজারের এই চড়াভাবের প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ। এই অবরোধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে সামনের দিনগুলোতে বাজারে বড় অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা রয়েছে।
বলে রাখা ভালো, আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন পৃথিবীতে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।
হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেতো না।
গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে ইরান। বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ট্যাংকার জাহাজে হামলাও চালানো হয়েছে। ১৫ দিন ধরে হরমুজ প্রণালি চলাচলের সময় ইরানি হামলার শিকার হয়েছে বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ১২টিরও বেশি ট্যাংকার জাহাজ।
একের পর এক হামলার কারণে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল অনিয়মিত হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে।
বৈশ্বিক জ্বালানির বাজার পর্যবেক্ষক সংস্থা ফিলিপ নোভার জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সাচদেব বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের পরিস্থিতি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে।’
সূত্র : রয়টার্স।
















