মীরসরাই, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি ছোরা, একটি লম্বা রামদা ও সাতটি কালো মুখোশ উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আনোয়ার হোসেন (২৩), বেলায়েত হোসেন (৩০) ও মো. আলাউদ্দিন ওরফে মামুন (৩৬)।
তাদের মধ্যে আনোয়ার হোসেনের বাড়ি চট্টগ্রামের ভূজপুর থানার বাগান বাজার ইউনিয়নের রহমতপুর এলাকায়, বেলায়েত হোসেনের বাড়ি ফেনী সদর থানার ফাজিলপুর ইউনিয়নের রাজনগর এলাকায় ও মো. আলাউদ্দিন ওরফে মামুনের বাড়ি জোরারগঞ্জ থানার করেরহাট ইউনিয়নের গেড়ামারা এলাকায়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, সম্প্রতি জোরারগঞ্জ থানার বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের নয়াটিলা থেকে কয়লা বাজারের মধ্যবর্তী এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ও ডাকাত দলের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। এ কারণে ওই সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় এবং জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সন্ধ্যার পর থেকে ভোররাত পর্যন্ত ডাকাতি প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে জোরারগঞ্জ থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. আকরামুল হক পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ডাকাতি প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছিলেন। এ সময় করেরহাট ইউনিয়নের ঘেড়ামারা এলাকার নয়াটিলা মাজারের প্রায় ১০০ গজ পূর্বে বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের উত্তর পাশে জঙ্গলের মধ্যে মুখোশ পরিহিত ১৪-১৫ জনের একটি দলকে দেশীয় অস্ত্রসহ অবস্থান করতে দেখা যায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দলটির সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় অন্যরা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে চারটি ছোরা ও একটি লম্বা রামদা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তাদের কাছ থেকে সাতটি কালো মুখোশও উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানায়, তারা ওই অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন থামিয়ে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে জড়ো হয়েছিল। তদন্তে গ্রেপ্তার তিনজন আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক দলের সদস্যদের শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মো. আলাউদ্দিন ওরফে মামুনের বিরুদ্ধে জোরারগঞ্জ থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি, মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া সিএমপির বায়েজিদ বোস্তামী থানাতেও তার বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি সংক্রান্ত মামলা রয়েছে।
















