চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার রূপসী হাউজিং সোসাইটি এলাকায় প্রায় ২০ হাজার ঘনফুট পাহাড় কাটার অভিযোগে দুই ব্যক্তিসহ অজ্ঞাত আরও এক-দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই পাহাড় কেটে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতিসাধনের অভিযোগে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০)’-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) খুলশী থানায় এজাহারটি দায়ের করেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের সিনিয়র টেকনিশিয়ান মো. ওমর ফারুক। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে একই কার্যালয়ের পরিদর্শক মুহাম্মদ আশফাকুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
এজাহারে বলা হয়, পাহাড় কাটার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মুহাম্মদ আশফাকুর রহমানসহ কর্মকর্তারা রূপসী হাউজিং সোসাইটির কাঁঠালবাগান, পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে যান। এ সময় খুলশী ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোহতাসিম বিল্লাহও উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে ব্রিক সলিং রাস্তার পূর্ব সীমানার উত্তর পাশে বাউন্ডারি দিয়ে ঘেরা একটি প্লটে পাহাড় কাটার স্পষ্ট চিহ্ন দেখতে পান কর্মকর্তারা। পরে ঘটনাস্থলে পাহাড় কাটার আনুমানিক পরিমাণ নির্ধারণ ও স্থিরচিত্র ধারণ করা হয়। এজাহার অনুযায়ী, কর্তিত পাহাড়ের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার ঘনফুট।
এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা প্লটটির মালিকানা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। পরে রূপসী হাউজিং সোসাইটির সভাপতি সালাউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কর্তিত পাহাড়/প্লটের মালিক আবু বকর সিদ্দিকসহ আরও কয়েকজন।
ভূমির মালিকানা যাচাইয়ের জন্য সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে চিঠি পাঠায় পরিবেশ অধিদপ্তর। পরদিন মঙ্গলবার ১ নম্বর বিবাদী মো. আবু বকর সিদ্দিকের উপস্থিতিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে দাখিল করা খতিয়ান পর্যালোচনা করে কর্মকর্তারা দেখতে পান, মামলার বিবাদীরাই ওই জায়গার মালিক।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, খতিয়ানে বিউটি আক্তার নামে একজনের নাম থাকলেও তিনি পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত না থাকায় তাকে মামলায় বিবাদী করা হয়নি। তিনি মামলার এক নম্বর বিবাদী আবু বকর সিদ্দিকের স্ত্রী।
স্থানীয়দের বরাতে এজাহারে বলা হয়, প্লটের মালিকরা আনুমানিক ১০-১২ জন শ্রমিক নিয়োগ করে কোদাল, শাবল, টুকরিসহ দেশীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পাহাড় কাটেন। এজাহারে পাহাড় কাটার সময় হিসেবে শনিবার (৫ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যবর্তী সময় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সরেজমিন পরিদর্শনে পাহাড়টি খাড়াভাবে কেটে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলার পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতিসাধনের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
মামলায় মো. আবু বকর সিদ্দিক ও মো. ছাবেরসহ অজ্ঞাত আরও এক-দুজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া পাহাড় কাটার মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০)’-এর ৬ (খ) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, ‘একই আইনের ১৫ (১) টেবিলের ক্রমিক নম্বর ৫ অনুযায়ী এ অপরাধ দণ্ডনীয়। মামলাটি তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিদর্শক মুহাম্মদ আশফাকুর রহমান।’
















