চট্টগ্রাম : আঞ্জুমানে রজভীয়া নূরীয়া ট্রাস্টের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ আবুল কাশেম নূরী বলেছেন, ‘সরকারকে নারী নির্যাতন, যৌতুক, মাদক ও শিশু নির্যাতনসহ সামাজিক নানা অনাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এসব সামাজিক অনাচার ও দুষ্টক্ষত বন্ধে জনগণকে সচেতন হতে হবে। সামাজিক সচেতনতা ও গণঘৃণাবোধ জাগ্রত করা ছাড়া এসব সামাজিক অভিশাপ থেকে নিষ্কৃতি মিলবে না।’
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকালে রজভীয়া নূরীয়া কমিটি বাংলাদেশের উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুর চত্বরে যৌতুক-মাদকবিরোধী মানববন্ধন ও র্যালিতে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনুষ্ঠানে আবুল কাশেম আরও বলেন, ‘যৌতুকের গ্লানি থেকে গরিব পরিবারগুলোকে বাঁচাতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। যৌতুক দেয়া-নেয়া দুটোকেই অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘যৌতুক, মাদক, নারী নিপীড়ন থামাতে হলে বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে বিদ্যমান আইনকে ঢেলে সাজিয়ে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করতে হবে। আলেম ও ইমাম সমাজ নিজ নিজ অবস্থান থেকে সোচ্চার হলে যাবতীয় সামাজিক অনাচার থেকে মুক্তি মিলতে পারে।’
রজভীয়া নূরীয়া কমিটির চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক রাজিবের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সচিব মুহাম্মদ আয়ুব তাহেরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব মুহাম্মদ মাছুমুর রশিদ কাদেরী বলেন, ‘গরিবের ঘরে ঘরে আজ নীরব আর্তনাদ-আহাজারি চলছে। যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় দেশে প্রতিদিন শত শত পরিবার ভাঙছে। কন্যাদায়গ্রস্থ পিতা-মাতার আর্তনাদ থামাতে না পারা আমাদের বড় ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতার গ্লানি থেকে আমাদের নিষ্কৃতি খুঁজতে হবে।’
মাহমুদুল হক রাজিব বলেন, ‘মাদকের হাতছানিতে যুব তরুণরা আজ আচ্ছন্ন, তাদের জীবনে মাদক সর্বনাশ ডেকে আনছে। ঘরে ঘরে আজ মাদক ঢুকে পড়েছে। মাদকের করাল গ্রাস থেকে আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে হবে। এই দায়িত্ব পালন না করলে আমাদের উত্তরসূরিরা আমাদের কখনো ক্ষমা করবে না। বর্তমান প্রজন্মকে গভীর অন্ধকারের গহ্বর থেকে উদ্ধার করতে হলে আমাদের দায়িত্ব সচেতন হওয়ার বিকল্প নাই।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ ছালেহ আহমদ আনসারী, আবুল হোসাইন, অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ্ ফারুকী, আবু ছালেহ আঙ্গুর, মুহাম্মদ হাসান আলী, মুহাম্মদ জাহিদুল হাসান রুবায়েত, এএমএম শোবায়ের, কুতুবউদ্দিন শাহ নূরী, মুহাম্মদ আবুল হাসান, মাওলানা আবুন নুর মুহাম্মদ হাসান নূরী, প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ জাকারিয়া, সচিব মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট ছলিম উদ্দিন খান, মাওলানা এনামুল হক এনাম, মাওলানা আব্দুল কাদের রেজভী, মাওলানা মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন নূরী, নুরুল হুদা মুহাম্মদ আক্কাস, এসএম ইকবাল বাহার, মুহাম্মদ আমানউল্লাহ, মুহাম্মদ আলমগীর, আবু ছালেহ মুহাম্মদ সাফওয়ান নূরী, মুহাম্মদ জাকের হোসাইন সওদাগর, কাযী মুহাম্মদ রুকনুজ্জামান, মুহাম্মদ মাহফুজ, ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ জাহেদ, মাষ্টার হারুন, মুহাম্মদ শাহজাহান, মাওলানা আনোয়ার রেযা, মাওলানা মুহাম্মদ সৈয়দুল হক, মুহাম্মদ শাহাদাত, মুহাম্মদ করিম মিয়া, ডা. রুকন, মুহাম্মদ আব্দুল হান্নান, আরিফ মঈন উদ্দীন মনির, এইচএম নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, আবু সৈয়দ, সৈয়দ সিরাজুল আলম, মহিউদ্দিন খোকন, মুহাম্মদ ওসমান, মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম হৃদয়, মুহাম্মদ ওসমান জাহাঙ্গীর, মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন, মুহাম্মদ বাদশাহ্ মিয়া, মাওলানা মালেক তাহেরী, মুহাম্মদ আরাফাত আলী রুবেল, মুহাম্মদ ইকবাল, মুহাম্মদ জামাল, মাওলানা আজিম উদ্দিন, মুহাম্মদ ইলিয়াছ, মুহাম্মদ নাছির, মুহাম্মদ সেলিম, এয়ার মুহাম্মদ, মহি উদ্দিন, মুহাম্মদ রুহুল আমীন প্রমুখ।
বিশাল র্যালিটি মুরাদপুর চত্বর থেকে ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন হয়ে পুনরায় মুরাদপুর এসে শেষ হয়।
















