চট্টগ্রাম : ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগান এবং ‘দেশব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম জেলার রেস্তোরাঁগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হবে।
আগামীকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এ তথ্য জানিয়েছে।
সচেতনতামূলক চট্টগ্রাম র্যালিটি সার্কিট হাউস থেকে শুরু হয়ে কাজীর দেউরি হয়ে স্টেডিয়াম মার্কেট প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হবে। র্যালি শেষে স্টেডিয়াম মার্কেট প্রাঙ্গণের রেস্তোরাঁগুলোতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ অন্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে।
একইসঙ্গে অন্যান্য রেস্তোরাঁ মালিক ও প্রতিনিধি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাবেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছিলেন চট্টগ্রামের হোটেল-রেস্তোরাঁয় নিরাপদ খাবার ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাবুর্চিসহ খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি প্রতি শনিবার রেস্তোরাঁগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি বলেছিলেন, ‘অনিয়মের কারণে কোনো কোনো রেস্তোরাঁকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হলেও কয়েক মাস পর আবার একই ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এ অভিজ্ঞতা থেকে শুধু জরিমানা ও শাস্তির ওপর নির্ভর না করে রেস্তোরাঁ মালিক ও কর্মীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে চায় জেলা প্রশাসন।’
‘এভাবে জরিমানা করে, শুধু প্রেসার ক্রিয়েট করে, শাস্তি দিয়ে আমরা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাচ্ছি না। আমরা কোনোভাবেই শুধু জরিমানা আদায় করে রেস্তোরাঁগুলোর পরিবর্তন করতে চাই না। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, তাদের দায়িত্বশীলতা ও দায়িত্ববোধ থেকেই পরিবর্তন আসবে।’
জাহিদুল ইসলাম আরও বলেছিলেনন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে রেস্তোরাঁয় খাবার তৈরি ও পরিবেশনের পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময়ও নানা অনিয়ম সামনে আসছে। এ পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক এবং সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে জেলা প্রশাসন। বৈঠকে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।’
‘আলোচনার ভিত্তিতে প্রতি সপ্তাহে একটি দিন রেস্তোরাঁগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য শনিবারকে বেছে নিয়েছেন রেস্তোরাঁ মালিকেরা।’
জেলা প্রশাসক জানিয়েছিলেন, আগামী শনিবার রেস্তোরাঁ মালিক ও কর্মীদের নিয়ে একটি র্যালি করা হবে। একই সঙ্গে রেস্তোরাঁগুলো প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কতটা বাস্তবায়ন করছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
বৈঠকে রেস্তোরাঁ মালিকেরা বাবুর্চি ও খাবার প্রস্তুতের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের তালিকা চেয়েছে জেলা প্রশাসন।
‘তাদের ট্রেনিং দেব। তাদের স্টাফদের আমরা ট্রেনিং দেব, হাইজিন ট্রেনিং দেব। নিজেদের কীভাবে সুস্থ রাখতে হয়, সেটাও শেখানো হবে।’
তিনি বলেন, ‘খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করা এবং অনিরাপদ খাবার গ্রহণের কারণে কর্মীরাও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন।’
এর আগে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোকে নির্ধারিত মান নিশ্চিত করতে ১০ দিনের সময় দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী যে গ্রেডের লাইসেন্স নিয়ে কোনো রেস্তোরাঁ পরিচালিত হচ্ছে, সেই মান বজায় রাখতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটির গ্রেড কমিয়ে দেওয়ার কথাও জানান জেলা প্রশাসক।
















