চট্টগ্রাম : বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটির সিআরবিতে ১০ কিলোমিটার দৌড় প্রতিযোগিতা ‘স্যাম বন্ড-সিআর টেনকে ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১২টি দেশের প্রায় ১ ১৮২ দৌড়বিদের অংশগ্রহণে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘রান দ্যা সিটি’।
প্রতিযোগিতা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দৌড়বিদরা ভোর ৫টা ১০ মিনিটের আগেই সিআরবি এলাকায় জড়ো হন।
প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের নগদ অর্থ ও সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
ওপেন (মেইন) ক্যাটাগরিতে ৩৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম হয়েছেন আসাদুর রহমান মহসিন। ৪০ মিনিট ২৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন নূর-এ-আলম। ৪১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন মোহাম্মদ ইফতি ও
চতুর্থ হয়েছেন মাহফুজুর রহমান এবং পঞ্চম হয়েছেন শাখাওয়াত হোসেন।
মহিলা ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছেন নওরিন জাহান, দ্বিতীয় হয়েছেন জারা, তৃতীয় হয়েছেন আয়শা আক্তার জুলি, চতুর্থ হয়েছেন সারা বিন তাহুরা ও পঞ্চম হয়েছেন ভিলো তুগাডা।
জেনারেশন নেক্সট (১৪-১৮ বছর) ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছেন মাহফুজ রহমান তুরাব, দ্বিতীয় হয়েছেন আকিফ আবেদ আকিল ও তৃতীয় হয়েছেন মো. ফেরদৌস আমিন।
এ ছাড়া আরও তিনটি বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছেন সুব্রত পাল, মো. ইনামুল হক এবং সঞ্জীব কুমার ঘোষ।
দ্বিতীয় হয়েছেন মোহাম্মদ দিদারুল, মো. মুসা খান ও মো. ফরিদ আহমেদ। তৃতীয় হয়েছেন আবু মো. জুলফিকার আজাদ, রতন কান্তি বড়ুয়া ও মো. আসলাম পারভেজ।
পঞ্চমবারের মতো এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে চট্টলা রানার্স। চট্টগ্রামের ফুসফুস হিসেবে পরিচিত সিআরবি এলাকাকে ঘিরেই অনুষ্ঠিত হয় এই দৌড় প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রানার এতে অংশ নেন।
এবারের আয়োজনে পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ক্রীড়ার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াও ছিল এবারের আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
আয়োজকরা জানান, সিআর টেনকে এখন দেশের অন্যতম পরিচিত ও উল্লেখযোগ্য দৌড় প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। তীব্র গরম উপেক্ষা করে বিপুলসংখ্যক রানারের অংশগ্রহণ এ আয়োজনকে আরও সফল করেছে। দেশ-বিদেশের প্রায় ১ হাজার ১৮২ জন রানারের অংশগ্রহণ আয়োজকদের জন্য বড় অর্জন।
শুক্রবার ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়। পরে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট থেকে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক রানারের সময় ডিজিটাল টাইমিং সিস্টেমের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপকমিশনার ডিসি (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, সামুদা স্পেক-কেম লিমিটেডের চিফ বিজনেস অফিসার বিকাশ কান্তি দাশ, হেড অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং একেএম মাহমুদুল হাসান ও ব্র্যান্ড ম্যানেজার ইমতিয়াজ ইবনে ইমাম, এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রামের হেড অব অপারেশনস বিনোদ সিং এবং হেড অব করপোরেট রাম প্রসাদ সুশীল ও রঞ্জন কুমার দাস, ফরহান জামান, এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী বাবর আলী।
হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বলেন, “এ ধরনের আয়োজন শুধু প্রতিযোগিতা নয়, বরং সুস্থ জীবনধারা ও নিয়মিত শরীরচর্চার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তরুণসহ সব বয়সী মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের দৌড় প্রতিযোগিতা কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। দেশি-বিদেশি রানারদের অংশগ্রহণে চট্টগ্রাম একদিনের জন্য দৌড়ের নগরীতে পরিণত হয়েছে।”
এবারের আয়োজনের টাইটেল স্পনসর ছিল স্যাম বন্ড (সামুদা স্পেক-কেম লিমিটেড)। স্বাস্থ্যসেবা ও হাইড্রেশন পার্টনার হিসেবে ছিল এভারকেয়ার হাসপাতাল চট্টগ্রাম ও আইসক্রিম পার্টনার ছিল সেভয় আইসক্রিম।
এ ছাড়া আয়োজন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে, সিএমপি ও সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।
চট্টলা রানার্সের উপদেষ্টাদের মধ্যে ছিলেন প্রদীপ কুমার দেব, রাজীব ঘোষ, ইনামুল হক, কাজী আরিফুল ইসলাম, কেসি বিকাশ, জহির উদ্দিন ও জসিম উদ্দিন প্রমুখ।
আয়োজনে চট্টলা রানার্সের ১৪৮ স্বেচ্ছাসেবক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
















