চট্টগ্রাম : মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ও চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান।
তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির সমালোচনা করে বলেছেন, ‘কিছু লেখক ভুলভাবে ইতিহাস উপস্থাপন করছেন। মুক্তিযুদ্ধকে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ হিসেবে ব্যাখ্যা করা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। এটি ছিল বাঙালি জাতির স্বাধীনতার সংগ্রাম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুধু ভৌগোলিক স্বাধীনতার জন্য ছিল না, বরং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্যই এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।’
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকালে নগরীর কাজীর দেউরী জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম মাঠে স্বাধীনতা বইমেলা চট্টগ্রামের মঞ্চে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ১৯ দিন ব্যাপী বইমেলার অষ্টম দিনে “‘লীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা সকলের নৈতিক দায়িত্ব’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সভায় মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘গ্রামের সাধারণ মানুষ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছেন, অথচ নির্যাতনের মুখেও তাদের অবস্থান শত্রুপক্ষকে জানাননি। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তারাই।’
বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। সংবিধানে নাগরিকদের খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা ও চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।’
মাহফুজুর রহমান অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের কাঠামোগত দুর্বলতা ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ এখনো তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি ব্যক্তিগত নয়, বরং কাঠামোগত সমস্যা। বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। শাসন কাঠামো পরিবর্তন ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।’
‘মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন। কিন্তু আমরা সেই লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে সরে গেছি। এখন সময় এসেছে নিজেদের মানসিকতা পরিবর্তনের মাধ্যমে সেই আদর্শে ফিরে যাওয়ার।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করতে হলে ভালো মানুষ হতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ অর্জন জরুরি।’
অনুষ্ঠানে বেতার ও টেলিভিশনের শিল্পী শর্মিলা বড়ুয়া ও মোস্তফা কামাল গান পরিবেশন করেন এবং চসিকের কাট্টলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, বলুয়ার দিঘি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং হোসেন আহমদ স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রামের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহাবুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আহামদ, বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষক মুহাম্মদ শামসুল হক, বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজল বারিক।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন টিভি ও বেতারের আবৃত্তিশিল্পী রিনিক মুন।
















