চট্টগ্রাম : সিটির পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত ও বিমানবন্দর সংলগ্ন সড়কের পাশে চট্টগ্রামের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেছেন, ‘নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাস্তার মাঝখানে কার্বস্টোন দিয়ে মিড আইলেন্ড, রাস্তার দুইপাশে চলাচলের জন্য দৃষ্টিনন্দন ফুটপাত এবং রাস্তার একপাশে ল্যান্ড স্কেপিং ওয়াক ওয়েসহ সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা হচ্ছে।’
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) বিকালে বিমানবন্দর এলাকায় চলমান সড়ক নির্মাণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে শাহাদাত হোসেন এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার যে পরিকল্পনা বিএনপি সরকারের রয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে এই নগরীতে ব্যাপক শিল্পায়ন ঘটবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্নত অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক মানের যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সেই লক্ষ্যেই বিমানবন্দর ও পতেঙ্গা সৈকত এলাকাকে আধুনিকায়নের আওতায় আনা হয়েছে।’
‘বিমানবন্দর এলাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন অসংখ্য দেশি বিদেশি যাত্রী এই পথ ব্যবহার করেন। তাই, এই এলাকায় নান্দনিক, সুপরিকল্পিত ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা সময়ের দাবি। সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবেশবান্ধব যাতায়াত উৎসাহিত হবে, অন্যদিকে পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।’
শাহাদাত হোসেন জানান, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত বর্তমানে চট্টগ্রামের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। সেখানে প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী ভিড় করেন। সৈকত ও বিমানবন্দর সড়ককে সংযুক্ত করে একটি নিরাপদ সাইকেল লেন নির্মিত হলে পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে সমুদ্রতীর ঘুরে দেখতে পারবেন। এতে যানজট কমবে, দূষণ কমবে ও স্বাস্থ্যসচেতন জীবনযাপনে নাগরিকরা উৎসাহিত হবেন।
‘উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন নগরে সাইকেল লেন নগর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চট্টগ্রামেও ধাপে ধাপে আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই নগর উন্নয়নের একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।’
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, সড়ক নির্মাণকাজে জনভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন।
পরিদর্শনকালে চসিকের প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ, যুবদল নেতা মোহাম্মদ মুছাসহ চসেকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
















