প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন সাংবাদিক ও সমাজকর্মী কাউছার খান। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই অঙ্গীকার সামনে রেখে দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষাপটে তিনি কিছু কঠোর কিন্তু অত্যাবশ্যক বিষয় তুলে ধরেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট খোলা চিঠিতে কাউছার খান উল্লেখ করেন, ক্ষমতার সবচেয়ে বড় শত্রু প্রকাশ্য বিরোধী নয়—বরং কাছের তেলবাজ, তোষামোদকারী ও সুবিধাভোগী সিন্ডিকেট চক্র।
তার দাবি, গতকাল থেকে সিন্ডিকেট চক্র প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়ানো শুরু করেছে।
চিঠিতে কাউছার খান বলেন, ‘অতিরিক্ত প্রশংসায় ব্যস্ত সবাই প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষী নাও হতে পারেন।’
ইতিহাসের উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষমতার চারপাশে জমে ওঠা তেলবাজরাই প্রকল্প লুটপাট, টাকা পাচার, সিন্ডিকেট গঠন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের প্রধান কারিগর হয়ে থাকে। তারা মুখে প্রশংসা করলেও আড়ালে রাষ্ট্রকে দুর্বল করে এবং ব্যর্থতার দায় নেতৃত্বের ওপর চাপিয়ে দেয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, যারা প্রশ্ন করবে, সমালোচনা করবে বা ভুল ধরিয়ে দেবে—তাদের শত্রু ভাবার সুযোগ নেই। বরং প্রশ্নহীন নীরব পরিবেশকে ভয় ও স্বৈরতন্ত্রের বীজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর পরিবার আপষহীনতার জন্য মূল্য দিয়েছে উল্লেখ করে কাউছার খান বলেন, ‘মরহুম আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া চাইলে অন্যায়ের সঙ্গে আপস করে নিরাপদ পথ বেছে নিতে পারতেন, কিন্তু তা করেননি।’
সেই ত্যাগ বর্তমান নেতৃত্বকে আরও দায়বদ্ধ করে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, দেশ সংস্কার চায়, প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ চায় এবং রাষ্ট্রের সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট চায়। তেলবাজ, চাঁদাবাজ, ধান্দাবাজ ও দখলবাজদের চায় না। দেশ সৎ, সাহসী, জবাবদিহিমূলক ও কঠোর ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে।
পরিশেষে প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য কামনা করে কাউছার খান বলেন, ‘শক্ত নেতৃত্বের জন্য সুস্থ শরীরের পাশাপাশি দৃঢ় নৈতিকতাও প্রয়োজন।’
















