চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটির বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় ২ কাটা হাত উদ্ধারের পর ঘটনার জট খুলেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত মো. আনিছের (৩৮) সাথে দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক থাকা সুফিয়া আক্তার (৩৯) নামে নারীর পরিকল্পনায় তাকে খুন করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আনিছকে অভিযুক্ত নারী বাসায় ডেকে নিয়ে সহযোগীদের সহায়তায় পাথরের শীল ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে থুন করে। পরবর্তী মৃতদেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নারী সুফিয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, নিহত আনিছ চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার চিকদাইর এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি সুফিয়া আক্তার নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন পাঠানপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার শহীদনগর চারতলার মোড় এলাকায় একটি কালো পলিথিনে মোড়ানো মানবদেহের দুইটি কাটা হাত পড়ে থাকার সংবাদ পায় পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাত দুইটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পরপরই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত ও মৃতদেহের অবশিষ্ট অংশ উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে উদ্ধারকৃত জাতীয় পরিচয়পত্রের সূত্রে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান, আনিছ গেল ২০ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশ অভিযান শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় বহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক চারটার দিকে শহীদনগর এলাকা থেকে সুফিয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) উত্তর জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সুফিয়া আক্তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।’
তিনি জানান, নিহত আনিছের সাথে তার দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ও মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তিনি আনিছকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
আমিরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি বিকালে আনিছকে পাঠানপাড়ার বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পাথরের শীল দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে খুন করা হয়। খুনের পর মৃতদেহ টুকরা টুকরা করে কালো পলিথিনে ভরে আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে শহীদনগর ও শীতলকর্ণা এলাকার বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।’
















