ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করা এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রামে একাধিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এসব কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।
দুপুরে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকা থেকে সাতকানিয়া উপজেলার উদ্দেশ্যে গাড়ীবহরসহ একটি সচেতনতামূলক যৌথ মহড়া পরিচালনা করা হয়। মহড়ার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সমন্বিত কার্যক্রম ও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
পরবর্তী সাতকানিয়া উপজেলায় সংসদীয় আসন চট্টগ্রাম-১৪ ও ১৫ আসনের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন, চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, ৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মাহমুদুন নবী এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাবৃন্দ।
সভায় মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, “এই নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমাদের এখন সুযোগ এসেছে রাষ্ট্রকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার। যেসকল ভাইবোনদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীনতা পেয়েছি, নতুন বাংলাদেশে নিঃশ্বাস নিতে পারছি—তাদের আদর্শকে পাথেয় করে এখন সময় রাষ্ট্রের প্রতি ও জনগণের প্রতি আমাদের প্রতিদান দেওয়ার।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সত্যের পক্ষে থাকতে হবে, নিরপেক্ষতার পথে থাকতে হবে। সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা যেন উৎসবমুখর পরিবেশে একটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নির্বাচন উপহার দিতে পারি—সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”
সভা শেষে জেলা প্রশাসক সরাসরি মাঠপর্যায়ে গিয়ে গণভোটের প্রচারণায় অংশ নেন। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিতরণ করেন এবং গ্রামপুলিশ, স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে দোকানে দোকানে প্রচারণা চালান; যা স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং গণভোট সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলকভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে বলে মনে করছে স্থানীয় জনগণ।
















