সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জেনজি-শিবিরঘেঁষা প্রার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ডাকসু, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চাকসুসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল এ প্রবণতাকে স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে- কেন শিক্ষার্থীরা এই রাজনৈতিক ধারার দিকে ঝুঁকছে?
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ক্যাম্পাসে একক আধিপত্য, হল দখল, সিট-সংকট ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ তৈরি করেছে। ভোটের মাধ্যমে সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটছে বলে মনে করছেন তারা।
জেনজি-শিবিরঘেঁষা সংগঠনগুলো নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রম, শৃঙ্খলাবদ্ধ উপস্থিতি এবং তুলনামূলক সংযত আচরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। ক্যাম্পাসে উত্তেজনামুক্ত ও নিয়ন্ত্রিত রাজনীতির চর্চা শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে আকৃষ্ট করছে।
দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, মাদকবিরোধী বক্তব্য ও নৈতিক রাজনীতির আহ্বান তরুণ প্রজন্মের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, এই ধারা ক্যাম্পাস জীবনে একটি নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে।
ভোটের ফলাফল কি জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র সংসদের নির্বাচন সরাসরি জাতীয় নির্বাচনের প্রতিচ্ছবি না হলেও এটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রবণতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভোটার ও নেতৃত্বের অংশ হবে। ফলে ক্যাম্পাসে যে রাজনৈতিক চেতনা ও সংস্কৃতি জনপ্রিয় হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, শিক্ষার্থীদের ভোট বর্তমান ক্যাম্পাস রাজনীতিতে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছে। শালীনতা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার রাজনীতি যদি ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকে, তবে এই প্রবণতা ভবিষ্যতের বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও প্রতিফলিত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
লেখক : সাংবাদিক ও সমাজকর্মী
















