বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি উদ্বেগজনক চিত্র ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে-রাজনীতিতে বেকার মানুষের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বেশি। এর পেছনে দায় এড়াতে পারে না রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বও। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নেতারা কর্মীদের কাছে কখনো প্রশ্ন করেন না-তুমি কী কাজ করো, তোমার আয়ের উৎস কী, পরিবার কীভাবে চলে। তোমার কি চাকরি বা ব্যবসায় লাগবে?
প্রকৃত অর্থে রাজনৈতিক অভিভাবকত্ব অনুপস্থিত। কর্মীদের কাজে লাগানো হয় কেবল মিছিল-মিটিংয়ে, আর মাঝে মধ্যে ৫০০ বা ১ হাজার টাকা দিয়ে দায় সেরে নেওয়া হয়।
রাজনীতি কোনো অপরাধ নয়। বরং রাজনীতি হওয়া উচিত একটি সম্মানজনক, দায়িত্বশীল ও সেবামূলক ক্ষেত্র। কিন্তু বাস্তবতা হলো-বেকারত্ব দূর করার আশায় অনেকেই রাজনৈতিক দলে যুক্ত হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতিই হয়ে ওঠে তাদের আয়ের অবলম্বন। এরপর রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ডকে ঢাল বানিয়ে একটি অংশ দখলবাজি, ইট-পাথর ও বালু সরবরাহের নামে চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ে। এর ফলে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তি এবং সাধারণ মানুষের রাজনীতির প্রতি আস্থা।
রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যবসায় করা অপরাধ নয়। কিন্তু অপরাধ তখনই ঘটে, যখন ন্যায্য মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া হয়, পরিমাণে কম দেওয়া হয়, পণ্যের মান ঠিক রাখা হয় না এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে মানুষের অধিকার হরণ করা হয়। এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায় শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন তারা, যারা আদর্শ, সততা ও নৈতিকতার রাজনীতি চর্চা করেন। তারা সমাজের কাছে বিব্রত হন, কোণঠাসা হয়ে পড়েন। আদর্শিক রাজনীতিকরা পিছিয়ে পড়েন, আর সুবিধাবাদীরা সামনে চলে আসে-যা রাজনীতির ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত।
যতদিন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সৎ, নৈতিক ও ইনসাফভিত্তিক রাজনীতির চর্চা নিশ্চিত করবেন না, ততদিন সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষিত হবে না। রাজনীতি যদি মানুষের সেবা না করে, তবে তা একসময় ক্ষমতার দালালিতে পরিণত হয়—যার চূড়ান্ত ক্ষতি হয় রাষ্ট্র, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের।
লেখক : সাংবাদিক ও সমাজকর্মী, চট্টগ্রাম
















