দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে আত্মবিশ্বাসী জয়ের মাধ্যমে এমআই এমিরেটস প্রমাণ করেছে, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অভিজ্ঞতা ও ভারসাম্যই তাদের বড় শক্তি। সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে উজ্জীবিত দলটি এবার ফাইনালে ডেজার্ট ভাইপার্সের বিপক্ষে শিরোপা জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে। প্রতিশোধের সুযোগ কাজে লাগাতে পারে কি না এমিরেটস, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সাকিব আল হাসান উইকেট না পেলেও বল হাতে বেশ মিতব্যয়ী ছিলেন। আর ব্যাট হাতে খেলেছেন দলের সবচেয়ে আগ্রাসী ইনিংস। তার এমন পারফরম্যান্সের দিনে বড় জয় পেয়ে এমআই এমিরেটসও নিশ্চিত করেছে আইএল টি-টোয়েন্টির ফাইনাল। আর টাইগার অলরাউন্ডার নির্বাচিত হয়েছেন ম্যাচসেরা।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাতে আইএল টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে আবুধাবি নাইট রাইডার্সকে সাত উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে এমআই এমিরেটস। ১২১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে তিন উইকেট হারিয়ে ২৩ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে সাকিবের দল।
টাইগার অলরাউন্ডার চার ওভার বল করে মাত্র ২০ রান খরচ করেন। আর ব্যাট হাতে পাঁচ চার ও এক ছক্কায় ২৪ বলে ৩৮ রান করেন।
বাঁচা-মরার ম্যাচে সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নামলেও এমআই এমিরেটসের শুরুটা খুব একটা ভালো ছিল না। মন্থর ব্যাটিংয়ে ৭ দশমিক ১ ওভারে তারা স্কোরকার্ডে যোগ করে মাত্র ৩৬ রান। এর মধ্যে হারায় দুই ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচার (৫) ও মুহাম্মদ ওয়াসিমকে (১০)। তবে তৃতীয় উইকেটে টম ব্যান্টন ও সাকিব মিলে ম্যাচের চিত্র বদলে দেন। দুইজন কোনো সুযোগই দেননি আবুধাবির বোলারদের। তাদের ৮২ রানের জুটিতে নিশ্চিত হয়ে যায় জয়। যদিও জয় পাওয়ার এক বল আগে আউট হয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন সাকিব। তবে অপরাজিত ছিলেন ব্যান্টন। ৫৩ বলে সাত চার ও এক ছক্কায় ৬৪ রান করেন তিনি। আবুধাবির বোলারদের মধ্যে অজর কুমার ১৩ রান খরচায় সর্বোচ্চ ২ উইকেট তুলে নেন। ২০ রান খরচায় এক উইকেট নেন সুনীল নারিন।
এর পূর্বে, ফাইনাল নিশ্চিতের লড়াইয়ে টস জিতে আবুধাবিকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল এমিরেটস। সাকিব ছাড়াও বল হাতে এএম গজানফার ও মুহাম্মদ রহিদ দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। তাদের কল্যাণে অ্যালেক্স হেলস, লিয়াম লিভিংস্টোন ও আন্দ্রে রাসেলের মতো মারকুটে ব্যাটারদের নিয়ে ১২০ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারেনি আবুধাবি। বড় তারকাতের মধ্যে হেলস কেবল ৩৬ বলে ২৯ রানের মন্থর একটি ইনিংস খেলেছিলেন। লড়াইয়ের পুঁজিটা এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাটার আলিশান শারাফুর ব্যাট থেকে। বিপর্যয়ের মুখে হাল ধরে ৪০ বলে ৩ ছক্কা ও ২ চারের মারে ৫০ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন তিনি।
এমিরেটসের হয়ে ২৪ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন গজানফার। রোহিদ ১৯ রান খরচায় ২ উইকেট, আর ফজলহক ফারুকী ৩০ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়েছেন।
এর পূর্বে, প্রথম কোয়ালিফায়ারে ডেজার্ট ভাইপার্সের কাছে ৪৫ রানে হেরে ফাইনালে ওঠার প্রথম সুযোগ হারিয়েছিল সাকিবের দল। তবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সে সুযোগ হাতছাড়া করেনি তারা।
আগামীকাল রোববার (৪ জানুয়ারি) শিরোপার লড়াইয়ে তারা আবার মুখোমুখি হবে ভাইপার্সের। সাকিবরা এবার প্রতিশোধ নিতে পারে কিনা, সেটাই দেখার পালা।
















