তরুণরা বাংলাদেশকে নতুন করে পথ দেখিয়েছে। আগামীতে তরুণ প্রজন্মই বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তারুণ্যের জয় হোক। তরুণরাই তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেচে নেবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। অর্থনীতিসহ সবকিছুতেই তরুণরা নেতৃত্বে আসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। যে প্রজন্ম জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছে, সেই প্রজন্মই বাংলাদেশের সর্বক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে।
তরুণদের নিয়ে শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, সমগ্র পৃথিবী নতুন করে ভাবছে, আর অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে। কারণ বাংলাদেশের তরুণরা জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পৃথিবীকে একটি নতুন পথ দেখিয়েছে। তারুণ্যের ভিতরে যে উদ্যম, স্পৃহা, সচেতনতা রয়েছে, এই সকল গুনাবলীকে যদি কাজে লাগানো যায়, তাহলে বাংলাদেশ অবশ্যই কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে যেতে পারবে।
নতুন বাংলাদেশে, নতুন আশা, নতুন ভালোবাসা নিয়ে এসেছে নতুন বছর ২০২৬ সাল। বছরের শুরুতেই নির্বাচনি আমেজ বিরাজ করছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন তাই শহর বন্দর গ্রামে চলছে নির্বাচনি ডামাঢোল। তাই এবারের নতুন বছরটি এদেশের মানুষের জন্য ভিন্ন আমেজের বার্তা নিয়ে এসেছে। সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনমুখী। এসেছে নতুন বছর, নতুন দিনের শপথে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই বছরের শুরুতেই নির্বাচনি আমেজ। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সবচেয়ে বড় বেশি প্রয়োজন।
প্রতিবাদী মানস আর পর্বতসম আত্মবিশ্বাস বুকে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন, সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন দেখেছিল এ দেশের দুর্জয় তারুণ্য। যে স্বপ্নের সারথি হয়েছিল এ দেশের সাধারণ মানুষ। সাম্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে, অধিকার আদায়ের নির্ভীক সংগ্রামে শিক্ষার্থীদের সাথে ছুটে এসেছিল তাদের অভিভাবক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কারখানার শ্রমিক, দিনমজুর, এমনকি দিন এনে দিন খাওয়া মানুষটিও। তাদের সংগ্রাম ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে, শোষণ ,নির্যাতন আর বিচারহীনতার প্রতিবাদে।
বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দাভাব আর সেটাকে মাথায় রেখে আমাদের জীবন জীবিকা সচল রাখতে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া সব নিয়মনীতি মেনে নতুন বছরে নতুন করে এগিয়ে যাবে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে। বহু স্মৃতি জাগানিয়া এবং আলোচিত বছর ছিল ২০২৫ সাল। ইংরেজী নববর্ষ উপলক্ষে নতুন সাজে সেজেছে চট্টগ্রাম। স্বাধীনতার পর এই প্রথম চট্টগ্রাম থেকে আমরা রাষ্ট্র প্রধান পেলাম। মুহাম্মদ ইউনুস আমাদের সেই স্বপ্নের প্রত্যাশাটি পূরণ করেছেন। ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন ও বর্ষ বিদায়ের নানা উৎসবের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।
গেলো বছরের হিসেব খাতায়, যোগের চেয়ে বিয়োগের অংকটাই এখন বড়। সে যাই হোক আশা করি, নিরাশার দোলা চালেইতো জীবন চলে। মৃত্যুর আগ মুহুর্তে পর্যন্তইতো মানুষ আশায় বাঁচে। আমরাও মানুষ, তাই ক্ষেত্র বিশেষে অতীতের স্বীয় ব্যর্থতার গ্লানিকে পিছনে ঠেলে দিয়ে নতুন বছরের পথ পরিক্রমনে যাত্রাকালে চেনা এ পৃথিবীটার সবার জন্যে সুখ কামনায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এ ছাড়া চৌচির কোন মাঠ ফসলের চৈতি ক্ষরায় কান্না কারো কোন দুঃখ ব্যাধি জ্বরায় নির্ঝর বারিধারা বিমূর্ত হাসি আশার একান্ত কাম্য। দেশের মানুষ অস্থিতিশীল পরিবেশকে পেরিয়ে ভালোভাবে বেঁচে থাকুক এই প্রত্যাশা করি।
পুরোনকে বিদায় দিয়ে নতুন কে বরণ করে নেয়াই মানুষের সহজাত ধর্ম। আবহমান কাল ধরে মানুষ পুরাতন কে শুকনো ঝরা পাতার মত ত্যাগ করে নতুন কুঁড়ির উদগমন হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করে। ইংরেজী নতুন বছর ২০২৬ কে জানাই সাদর সম্ভাষণ। এক বুক অনাবিল আনন্দ নিয়ে স্বাগত জানাই নতুন বছরের নবীন প্রভাতের নবীন সূর্যকে।
যেহেতু এ বছরটি নির্বাচনি বছর। তাই নতুন বছরে নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশাও বহু। সব মিলিয়ে ২০২৬ সাল কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমাদেরকে প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদেরকে সব সমস্যাকে মোকাবিলা করে এই সময় কাটিয়ে নতুন আশা নতুন স্বপ্ন নিয়ে নতুন বছর ২০২৬ সাল সবার জন্য বয়ে নিয়ে আসুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।
লেখক : সাংবাদিক ও গীতিকার
















