আহমেদাবাদ, ভারত : ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ‘ভাইব্র্যান্ট নবরাত্রি ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
রোববার (১২ অক্টোবর) গুজরাট ট্যুরিজমের উদ্যোগে শহরের জিএমডিসি গ্রাউন্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা।
উৎসবে ভারতের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ৩৫০ জনেরও বেশি আইসিসিআর বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ছাড়াও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, নেপাল, চীন ও আফগানিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
দেবীশক্তির আরাধনা, গুজরাটের সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যবাহী নৃত্যকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ উৎসবের প্রাঙ্গণ সেজে ওঠে বর্ণিল আলোকসজ্জা ও উৎসবের নানা আয়োজনে। ঢোলের তালে ঐতিহ্যবাহী গরবা ও ডান্ডিয়ার ছন্দে মুখর হয়ে ওঠে জিএমডিসি গ্রাউন্ড। সংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ৮০০’-রও অধিক শিল্পীর পরিবেশনায় পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত আন্তর্জাতিক মিলনমেলায়।
গুজরাটের অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক আয়োজন নবরাত্রি। নয় রাত ধরে দেবী দুর্গা ও আদ্যাশক্তির আরাধনাকে কেন্দ্র করে পালিত এ উৎসবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি গরবা ও রাস ডান্ডিয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত নারী-পুরুষের বৃত্তাকার গরবা নৃত্য গুজরাটের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক হিসেবে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করে।
গুজরাটের ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করা, পর্যটনকে উৎসাহিত করা এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়ানো এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
আলোকোজ্জ্বল উৎসব প্রাঙ্গণে বিভিন্ন দেশের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ আবারও প্রমাণ করেছে, সংস্কৃতি ও উৎসব ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে মানুষকে একসূত্রে বাঁধতে পারে। আহমেদাবাদের নবরাত্রি তাই কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের এক বর্ণাঢ্য উদযাপন।
















