রংপুর : বাংলাদেশ পথমূকাভিনয় পরিষদের আয়োজনে ‘জাগো বাহে কোনঠে সবায়’ স্লোগানকে সামনে রেখে ফরাসি মূকাভিনয়শিল্পী মার্সেল মার্সো স্মরণে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রংপুর পথমূকাভিনয় উৎসব ২০২৬’।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রংপুর টাউন হল সংলগ্ন শহিদ মিনারে প্রাঙ্গণে এ উৎেবের আয়োজন করা হয়।
উৎসবের শুরুতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে রংপুর শহরের বিশিষ্টজন ও বাংলাদেশ পথমূকাভিনয় পরিষদের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। সভা শেষে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পরিষদের ওয়েব সাইটের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বাংলাদেশ পথমূকাভিনয় পরিষদের চেয়ারম্যান রিজোয়ান রাজন।
বাংলাদেশ পথমূকাভিনয় পরিষদের কার্যকরি চেয়ারম্যান আসবাবীর রাফসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন। স্বাগত বক্তব্য দেন পরিষদের সেক্রেটারি জেনারেল ইহতিয়াজ ত্বকী এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল রবি। বিশেষ অতিথি ছিলেন কারমাইকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সমর্পিতা ঘোষ তানিয়া, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ওমর ফারুক, রংপুর মিউজিক্যাল ব্যান্ড এসোসিয়েশনের (রামবা) সভাপতি মোহাম্মদ জহির আলম নয়ন, রংপুর নাট্য ফোরামের সভাপতি চৌধুরী মাহমুদুন্নবী ডলার, তিস্তা ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান আসরাফুল আলম আল-আমীন এবং বাংলাদেশ পথমূকাভিনয় পরিষদের কো-চেয়ারম্যান শাকুর শাহরিয়ার।
আলোচনা পর্ব শেষে মনোজ্ঞ পথমূকাভিনয় প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মূকাভিনয় দল অংশ নেয়।
নওগাঁ মাইম থিয়েটারের প্রযোজনায় পরিবেশিত হয় প্রতিবাদী কৃষক ও মুক্ত পাখি মূকাভিনয়। মূকাভিনয় দুইটির রচনা, নির্দেশনা ও অভিনয়ে ছিলেন মো. শামীম শেখ। সাইলেন্ট থিয়েটারের প্রযোজনায় পরিবেশিত হয় দৌড় ও দুর্গমগিরি শিরোনামে দুইটি মূকাভিনয়। এর রচনা, নির্দেশনা ও অভিনয়ে ছিলেন আসবাবীর রাফসান। কাকাশিস কারমাইকেল কলেজ রংপুরের প্রযোজনায় পরিবেশিত হয় মূকাভিনয় ‘এই শহরে’। এটির রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন রবিউল ইসলাম রবি।
চট্টগ্রামের মূকাভিনয় দল পুরাণের পরিবেশনার নাম ‘জাত’। মূকাভিনয়টির রচনা, নির্দেশনা ও অভিনয়ে ছিলেন শাকুর শাহরিয়ার। মুক্ত বিহঙ্গ রংপুরের প্রযোজনায় মূকাভিনয় ছিল ‘সীমারের প্রত্যাবর্তন’। এই মূকাভিনয়টির রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন রবিউল রবি। রংপুর পদাতিকের প্রযোজনায় মঞ্চস্থ হয় ‘একটি স্বপ্নের মৃত্যু’। এটিও রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন রবি রবিউল।
মূকাভিনয় ছাড়াও স্থানীয় শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনা ছিল। নিস্তব্ধতার মাঝে শারীরিক অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে সমাজ ও জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরে শিল্পীদের নিখুঁত পরিবেশনা উপস্থিত বিপুলসংখ্যক দর্শককে মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জয় লালা ও অন্তরা আক্তার। সাংকেতিক ভাষায় কথা বলেন ইমরানা আনসারী বীথি। আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল মুক্তবিহঙ্গ রংপুর।
















