চট্টগ্রাম : কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ এবং কিশোরদের সুস্থ, স্বাভাবিক ও ইতিবাচক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পুলিশ, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সব স্টেকহোল্ডারকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে এ আহ্বান জানানো হয়।
পোস্টে বলা হয়, ‘চট্টগ্রাম জেলার ১৭টি থানার আওতাধীন এলাকায় কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত উদ্যোগে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা জরুরি।’
এতে পুলিশকে কিশোর অপরাধপ্রবণ স্পট, আড্ডাস্থল ও অপরাধে জড়িত গ্রুপ চিহ্নিত করে নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ, কাউন্সেলিং এবং প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
অভিভাবকদের সন্তানের চলাফেরা, বন্ধুত্ব, অনলাইন কার্যক্রম ও আচরণগত পরিবর্তনের প্রতি নজর রাখা এবং প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষার্থী চিহ্নিত করে কাউন্সেলিং, অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনকে এলাকাভিত্তিক কিশোর উন্নয়ন কার্যক্রম, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি করতে বলা হয়েছে।
ইমাম ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে কিশোরদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পরিবহন ও অন্যান্য স্থাপনা যেন কিশোর অপরাধের আড্ডাস্থল হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সচেতন নাগরিক ও কমিউনিটি পুলিশিং সদস্যদের কিশোর অপরাধ, মাদক, সংঘবদ্ধ আড্ডা বা অপরাধপ্রবণতার তথ্য দ্রুত পুলিশকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। গণমাধ্যমকে কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ, সচেতনতা এবং সফল পুনর্বাসনের ইতিবাচক বার্তা প্রচারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
কিশোরদের উদ্দেশে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ মাদক, জুয়া, ইভটিজিং, মারামারি, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অপরাধপ্রবণ ব্যক্তি, বখাটে বা অপরাধী চক্রের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও আড্ডা এড়িয়ে চলা, গুজব, সহিংসতা, উসকানিমূলক কনটেন্ট ও সন্দেহজনক অনলাইন গ্রুপ থেকে দূরে থাকা এবং কারও প্ররোচনা, চাপ বা ভয়ভীতির কারণে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত হওয়া এবং কোনো সমস্যা, অপরাধের প্ররোচনা বা মাদকের তথ্য জানা থাকলে অভিভাবক, শিক্ষক অথবা পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পোস্টে বলা হয়, ‘কোনো বন্ধু বা সহপাঠী বিপথে গেলে তাকে অপরাধে উৎসাহিত না করে পরিবার, শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সহায়তা নিতে হবে। একটি ভুল সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে উল্লেখ করে ইতিবাচক বন্ধুত্ব ও সুস্থ পরিবেশ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
কিশোরদের সংশোধন ও পুনর্বাসনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ বলেছে, ‘অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদের ক্ষেত্রে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।’
ঝুঁকিপূর্ণ কিশোরদের কাউন্সেলিং ও পারিবারিক তত্ত্বাবধান, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়াদের পুনরায় শিক্ষার আওতায় আনা, কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণ এবং মাদকঝুঁকিতে থাকা কিশোরদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
পরিবার, শিক্ষক, সমাজকর্মী ও পুলিশের সমন্বয়ে নিয়মিত ফলোআপ এবং অপরাধপ্রবণ পরিবেশ থেকে কিশোরদের বের করে ইতিবাচক পরিবেশ ও সহায়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পোস্টে আরও বলা হয়, কিশোরদের অপরাধী হিসেবে নয়, সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হিসেবে বিবেচনা করে তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
সমন্বিত প্রতিরোধ, সচেতনতা, সংশোধন ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলা থেকে কিশোর অপরাধের বিস্তার রোধ করে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও কিশোরবান্ধব সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
















