মিরসরাই, চট্টগ্রাম : বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেডের উদ্যোগে চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এনএসইজেড) একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
এর মাধ্যমে প্রকল্পটির নির্মাণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো এবং এটি দেশের শিল্পায়ন, দেশীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন খাতের বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক এমইপি গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান’ যা ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২ হাজার করপোরেট ক্লায়েন্ট-বেইস এবং দেশব্যাপী ১ হাজারের বেশি ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক রয়েছে। মোহাম্মদী ইলেকট্রিক ওয়্যার অ্যান্ড মাল্টি প্রোডাক্টস (এমইপি) লিমিটেড, এমইপি ফ্যান লিমিটেড, এমইপি এনার্জি সেভিং ল্যাম্পস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এমইপি পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, চাকলাদার শিপিং লাইনস লিমিটেড, এমইপি লাইট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এমইপি প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ, এমইপি অ্যাগ্রো লিমিটেডসহ এমইপি গ্রুপের বহুজাত ব্যবসায়িক কার্যক্রম রয়েছে। বিভিন্ন মডেলের সুইচ-সকেট, কেবল (ডোমেস্টিক, এইচটি, এলটি), কমপ্যাক্ট ফ্লুরোসেন্ট ল্যাম্প বা এনার্জি সেভিং ল্যাম্প, এলইডি লাইট, ফ্যান, পিভিসি পাইপসহ বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য বাজারে এনে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক খাতে সুনামের সাথে কাজ করছে।
প্রতিষ্ঠানটি এনএসইজেডে প্রায় ১০ একর জমিতে একটি অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ক্লাস্টার বা শিল্প কারখানা স্থাপন করবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে, যা সম্পূর্ণ দেশীয় বিনিয়োগ। শিল্প প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার, সুইচ-সকেট, ফ্যান, এলইডি লাইট ও সার্কিট ব্রেকারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন করা হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিদ্যমান সুনাম ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশে ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণ করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার, পরিচালক শকিল আলম চাকলাদার ও ফাহিম আলম চাকলাদার প্রমুখ।
মো. জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠান একটি বিশ্বমানের, প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই প্রকল্প দেশীয় বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ বৈদ্যুতিক পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।’
প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করে ২০২৯ সালের জানুয়ারি থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন কার্যক্রম চালু হলে প্রায় ২ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রসঙ্গত, জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইতোমধ্যে ১৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠান নির্মাণাধীন রয়েছে। সাগরতীরের ২৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে গড়ে ওঠা দেশের বৃহত্তম এই পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও নগর ব্যবস্থার সকল সুযোগ-সুবিধার সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বেজা এবং এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের এনএসইজেডে একটি আধুনিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের লক্ষ্যে ভূমি লিজ চুক্তি সই হয়। বেজা সম্প্রতি লিজচুক্তির বিভিন্ন ধারায় পরিবর্তন এনেছে এবং বিনিয়োগকারীদের মাঠ পর্যায়ে কাজ ত্বরান্বিতকরণে শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজের জন্য একটি সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক ওই সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা যথাযথভাবে অনুসরণ করে নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করেছে।
















