চট্টগ্রাম : প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটির বাকলিয়া থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকালে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জিয়াউর রহমান জিয়া। সভাপতিত্ব করেন বাকলিয়া থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. দুলাল মিয়া এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মো. শামীম আহমেদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আবু নাঈম দুলাল, নোমান শিকদার সোহাগ ও জাফর হোসেন রনি। এছাড়া, বাকলিয়া থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাসুদুল ইসলাম লিটন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মো. জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু একজন রাষ্ট্রনায়কই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির এক উজ্জ্বল প্রতীক। দেশের ক্রান্তিলগ্নে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সূচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন, দেশপ্রেম এবং জনগণমুখী উন্নয়ন ভাবনা আজও দেশের মানুষের জন্য প্রাসঙ্গিক।”
তিনি আরও বলেন, “জিয়াউর রহমান দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে কৃষি, শিল্প, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। তাঁর শাসনামলে দেশের মানুষ উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতার নতুন দিগন্তের সূচনা দেখতে পেয়েছিল।”
জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, “আজকের প্রজন্মকে জিয়াউর রহমানের আদর্শ, সততা, দেশপ্রেম এবং আত্মত্যাগের ইতিহাস জানতে হবে। তার আদর্শ অনুসরণ করেই একটি শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। যুবসমাজকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি বলেন, “বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এই লক্ষ্য অর্জনে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হতে হবে।”
অন্য বক্তারা বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ ও কর্মময় জীবন দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তার আদর্শকে ধারণ করে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার মাধ্যমে তাকে যথাযথভাবে স্মরণ করা সম্ভব।’
অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য দোয়া করা হয়।
দোয়া মাহফিল শেষে এলাকার দুঃস্থ, অসহায় ও পথচারীদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তার আদর্শ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
















