ঢাকা : পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঢাকার বাজারে ফের বাড়তির দিকে নিত্যপণ্যের দাম। বিশেষ করে মুরগি ও গরুর মাংসের বাজারে বেড়েছে মূল্য। তবে, বিপরীত চিত্র দেখা গেছে সবজির বাজারে। ক্রেতা কম থাকায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমেছে।
আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) ঢাকার কারওয়ান বাজারসহ আশেপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
ঈদের বাকি আর মাত্র হাতেগোনা কয়েক দিন। ফলে, অনেকেই আগেভাগে বাজার করছেন। এতে ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে মুরগির চাহিদা। আর সেই চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দামও।
বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গেল ১ সপ্তাহ ধরে বাজারে মুরগির দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি মুরগির দাম প্রায় ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বর্তমানে বাজারে ব্রয়লার, সোনালি, লেয়ার ও দেশি-সব ধরনের মুরগির দামই বেড়েছে। সোনালি মুরগি ৩০ টাকা বেড়ে কেজি প্রতি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেয়ার মুরগি ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩১০ টাকায়। দেশি মুরগির দাম ৩০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৬৭০ টাকা কেজি। আর ব্রয়লার মুরগি ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়।
বিক্রেতারা বলছেন, ‘ঈদের আগে সাধারণত মুরগির চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু এবার সেই চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কিছুটা কম।’
কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ছোট ছোট অনেক খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে আগের মতো মুরগি আসছে না। তার ওপর ঈদ সামনে থাকায় চাহিদাও বেড়েছে। ফলে, বাজারে দাম বাড়তি।’
মুরগির পাশাপাশি বেড়েছে গরুর মাংসের দামও। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস কেজি প্রতি ৩০ টাকা বেড়ে এখন ৭৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, ঈদ ঘনিয়ে আসায় মাংসের চাহিদাও কিছুটা বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।
অন্যদিকে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। চাহিদা কম থাকায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা মরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৬০-৮০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও একই পণ্য বিক্রি হয়েছে ১০০-১২০ টাকায়।
বিক্রেতারা বলছেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে অনেক ক্রেতা এখন শপিংয়ে ব্যস্ত। আবার অনেকে ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন। ফলে, বাজারে ক্রেতা উপস্থিতি কমেছে।’
সবজি বিক্রেতা আতিকুর রহমান বলেন, ‘এখন বাজারে ক্রেতা কম। অনেকেই কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত, আবার অনেকেই ঢাকা ছাড়ছেন। এ জন্য সবজির চাহিদা কমে গেছে। চাহিদা কম থাকায় মূল্যও কিছুটা কমেছে।’
















