চট্টগ্রাম: ‘অগণতান্ত্রিকভাবে অবৈধ পন্থায় শেখ হাসিনার সরকারকে ধাক্কা দেয়া যাবে না ও যায়নি। কারণ, আওয়ামী লীগ বার বার ক্ষমতায় এসেছে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত রায়ে ও অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে।’
১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম গণহত্যা দিবসের ৩৬তম বার্ষিকী পালন উপলক্ষে চট্টগ্রামে আয়োজিত বিভিন্ন আলোচনা সভায় বক্তারা এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বুধবার (২৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী চট্টগ্রাম গণহত্যায় শহীদদের সম্মানে কাউন্সিলরদের নিয়ে ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কর্মীদের আত্মত্যাগেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রক্ষা হয়েছে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সালে ২৪ জন আওয়ামী লীগ কর্মী নিজেদের তাজা প্রাণ বিলিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেন।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্যানেল মেয়র গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনি, নাজমুল হক ডিউক, আবদুস সালাম মাসুম, পুলক খাস্তগীর, আবদুস সালাম মাসুম, চসিকের উপ-সচিব আশেকে রসুল টিপুসহ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ বুধবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে আদালত ভবনের সম্মুুখে অবস্থিত শহীদ স্মৃতি স্তম্ভের সামনে স্মরণসভার আয়োজন করে।
এতে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ৭১’র পরাজিত শক্তি ও অবৈধ সামরিক জান্তা কখনো মেনে নিতে পারেনি। জিয়াউর রহমানও চাননি শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসুক। তাই, শেখ হাসিনাকে প্রাণনাশের জন্য আজ পর্যন্ত ২১টি ব্যর্থ হত্যা প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। তাকে হত্যার ধারাবাহিক অপচেষ্টা শুরু করেছিলেন স্বৈরাচারী সেনাশাসক এরশাদ। ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার রকিবুল হুদার নির্দেশে পুলিশ পাখি শিকারের মত নির্বিচারে গুলি চালিয়ে গণহত্যার তাণ্ডব চালিয়েছিল।’
সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি গণহত্যা দিবসে যে বর্বর তাণ্ডব চালানো হয়, তাতে ২৪টি প্রাণ ঝরে পড়ে। আল্লাহর অশেষ রহমতে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছিলেন। তাকে বার বার হত্যার প্রচেষ্টা হয়েছে। ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তার কুসন্তান তারেক জিয়ার প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় গ্রেনেড হামলা করে শেখ হাসিনাকে হত্যা করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। সেই দিন আইভী রহমানসহ ২৬টি তাজা প্রাণ ঝরে পড়ে। ওই ঘটনায় অসংখ্য নেতাকর্মী স্প্রিন্টার বিদ্ধ হয়ে এখনো যন্ত্রণায় ভুগছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি সংঘটিত চট্টগ্রাম গণহত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে সারাদেশের মধ্যে একমাত্র চট্টগ্রামে প্রয়াত জননেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে দুর্বার আন্দোলন ও প্রতিবাদ গড়ে উঠায় চট্টগ্রাম গণহত্যাকারীদের বিচার হয়েছে। এতে পাঁচজনের ফাঁসি হয়েছে। অনেকের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছে।’
আইন বিষয়ক সম্পাদক শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তৃতা করেন সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, নির্বাহী সদস্য মহব্বত আলী খান ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান মিন্টু।
















