চট্টগ্রাম : উন্নয়ন সংস্থা ঘাসফুলের ৪৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় নিরাপদ খাদ্য, প্রবীণ কল্যাণ ও তরুণদের দক্ষতা বিকাশে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
শনিবার (৯ মে) সংস্থার চান্দগাঁওস্থ প্রধান কার্যালয়ে ভার্চুয়ালি এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ঘাসফুল নির্বাহী পরিষদের সভাপতি ও চবি সিনেট সদস্য ড. মনজুর-উল-আমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় সংস্থার সাধারণ পরিষদের সদস্যগণ, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং ঘাসফুলেরর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ সংযুক্ত ছিলেন।
সভার শুরুতে মনজুর-উল-আমিন সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ঘাসফুলের প্রতিষ্ঠাতা মরহুমা শামসুন্নাহার রহমান পরাণ, প্রধান পৃষ্ঠপোষক মরহুম এমএল রহমানসহ সংস্থার দীর্ঘযাত্রায় ঘাসফুল-সহযাত্রী যেসব সহকর্মী মৃত্যুবরণ করছেন, তাদেরকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
সভায় ৪৩তম সাধারণ সভার কার্যবিবরণী ও অগ্রগতি উপস্থাপন করেন সিইও আফতাবুর রহমান জাফরী। ঘাসফুল নির্বাহী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাফরূহা সুলতানা চলতি অর্থবছরের সংস্থার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সংবলিত পূর্ণাঙ্গ বিবরণী উপস্থাপন করেন এবং সংস্থার বার্ষিক প্রতিবেদন (২০২৪-২০২৫) উপস্থাপন করেন উপ-পরিচালক সাদিয়া রহমান, সংস্থার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন উপ-পরিচালক মারুফুল করিম চৌধুরী।
সভায় সংস্থার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন, অডিটর নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনুমোদন দেয়া হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, ‘‘ঘাসফুল শহর থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে নিরাপদ কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা, শিশু বিকাশ ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পোলট্রি, নিরাপদ কৃষি ও ফলচাষের মাধ্যমে খরা সহনশীল কৃষি উদ্যোগ ইতোমধ্যে ইতিবাচক ও দৃশ্যমান পরিবর্তনের নজির সৃষ্টি করেছে।’’
এসব কার্যক্রমের ওপর নির্মিত একটি ভিজ্যুয়াল প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হলে অংশগ্রহণকারীরা ব্যাপক প্রশংসা করেন।
মনজুর-উল-আমিন চৌধুরী সম্প্রতি জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ৪০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের ঘাসফুল পরাণ রহমান স্কুল ও সেবক কলোনির ঘাসফুল বিকাশ কেন্দ্র পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি ঘাসফুল-প্রতিষ্ঠাতার একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন, “ঘাসফুল শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন করে না, এখানে জ্ঞানচর্চাও হয়।”
এ জন্য তিনি আগামী কার্যনির্বাহী কমিটিকে গবেষণার জন্য পৃথক বাজেট বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানান।
আলোচনায় অংশ নেন ঘাসফুল সদস্য সাবেক মুখ্য সচিব ড. মোহাম্মদ আবদুল করিম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. গোলাম রহমান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এমএ সাত্তার মন্ডল, শিক্ষাবিদ ও সাবেক যুগ্মসচিব ড. জয়নাব বেগম, পারভীন মাহমুদ, শিব নারায়ণ কৈরী, কেএএম মাজেদুর রহমান, জাহিদা ইস্পাহানি, জাহানারা বেগম, মো. ওয়াহিদুজ্জামান, কবিতা বড়ুয়া, শাহানা বেগম, সমিহা সলিম, ইয়াসমীন আহমেদ, জেরিন মাহমুদ হোসেন, ও ঝুমা রহমান। আরো সংযুক্ত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ঢাকা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন, অডিট ফার্ম হুসেইন ফরহাদ অ্যান্ড কোংয়ের পরিচালক ও কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স বিভাগের প্রধান মো. নজরুল ইসলাম।
সভায় ১ জুলাই ২০২৬-৩০ জুন ২০২৯ মেয়াদের জন্য নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা হলেন সভাপতি মাফরুহা সুলতানা, সহ-সভাপতি শিব নারায়ণ কৈরী, সাধারণ সম্পাদক সমিহা সলিম, যুগ্ম সম্পাদক শাহানা বেগম, কোষাধ্যক্ষ কেএএম মাজেদুর রহমান, নির্বাহী সদস্য কবিতা বড়ুয়া ও জেরিন মাহমুদ হোসেন।
সভা শেষে নবগঠিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, তাদের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় ঘাসফুলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত, গতিশীল ও জনমুখী হবে এবং দেশের প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সংস্থাটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
















