গুইমারা, খাগড়াছড়ি : আঞ্চলিক তথ্য অফিস চট্টগ্রাম পিআইডির আয়োজনে খাগড়াছড়ি গুইমারা উপজেলায় সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় আঞ্চলিক তথ্য অফিস চট্টগ্রাম পিআইডি উপপ্রধান তথ্য অফিসার বাপ্পী চক্রবর্তী সভাপতিত্ব ও মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিসকাতুল তামান্না প্রধান অতিথি ছিলেন। আঞ্চলিক তথ্য অফিস চট্টগ্রামের তথ্য অফিসার জিএম সাইফুল ইসলাম সঞ্চালনা করেন।
মূল বক্তব্য বাপ্পী চক্রবর্তী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হচ্ছে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা। এ লক্ষ্যেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারি ফ্যামিলি কার্ড প্ল্যাটফর্ম অনুযায়ী, কর্মসূচিটির মূল দর্শন হলো— ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক।’ একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রকৃত অভাবী পরিবার চিহ্নিত করে তাদের খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বাবলম্বীকরণের সুযোগ নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির লক্ষ্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকদের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল পরিচয় ও তথ্যভিত্তিক সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই কৃষক কার্ড কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, স্বল্পমূল্যে কৃষিযন্ত্র, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, আবহাওয়া ও বাজার তথ্য, কৃষি প্রশিক্ষণ, ফসলের রোগবালাই ব্যবস্থাপনা, কৃষি বীমা এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’
বাপ্পী চক্রবর্তী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি সম্পর্কে জনগণকে সঠিক তথ্য জানাতে হবে। একই সঙ্গে এসব কর্মসূচির বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা, অনিয়ম, অসঙ্গতি বা জনগণের ভোগান্তি দেখা দিলে তা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তুলে ধরতে হবে। এতে একদিকে জনগণ সচেতন হবে, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ পাবে।’
মিসকাতুল তামান্না বলেন, ‘সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সরকারি দপ্তরগুলোর পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জনগণের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গুইমারা একটি নবসৃষ্ট উপজেলা হওয়ায় অন্যান্য উপজেলার তুলনায় প্রয়োজনীয় কিছু সরকারি সেবা ও অবকাঠামো গড়ে উঠতে সময় লাগছে। সম্প্রতি চলতি অর্থবছর থেকে গুইমারায় ভূমি অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ফায়ার সার্ভিসসহ আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেবা এখনও সীমিত থাকায় স্থানীয় জনগণকে পার্শ্ববর্তী উপজেলায় গিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে। আশা করা যায় দ্রুত এসব সেবা দপ্তরের সেবা কার্যক্রম দ্রুত চালু করা হবে।’
মিসকাতুল তামান্না বলেন, ‘সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইট নিয়মিত হালনাগাদ করার পাশাপাশি নাগরিক সনদ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ এবং তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে জনগণ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।’
কোনো তথ্য স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পাওয়া না গেলে তথ্য অধিকার আইনে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
খাল খনন কর্মসূচি প্রসঙ্গে মিসকাত তামান্না বলেন, ‘খাল খননের পাশাপাশি খালের সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং খননকৃত খাল সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। খাগড়াছড়িতে মডেল খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে অন্যান্য এলাকায় খাল খননের ক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কার্যকর মডেল হিসেবে কাজে লাগতে পারে।’
গুইমারায় কৃষি ব্যাংকের শাখা স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধান অতিথি বলেন, ‘কৃষি ব্যাংকসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করে থাকে। এসব সুবিধা সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো প্রয়োজন।’
সভায় সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় সমস্যা ও জনগণের দাবিগুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরার মাধ্যমে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি ও বাস্তব সমস্যার বিষয়গুলোও যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির তথ্য সঠিকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সরকারি তথ্য অফিস, সংশ্লিষ্ট দপ্তর, জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সঠিক তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে গুজব ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফলও জনগণের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।’
মুক্ত আলোচনায় গণমাধ্যম কর্মীগণ বলেন, ‘নির্বাচনি ইশতেহারে জনগণের জন্য ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি ও অঙ্গীকারের সুফল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।’
গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে আরো কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করে গণমাধ্যম কর্মীগণ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রচারের আগে তা যাচাই করা জরুরি। গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে যাচাই করা তথ্য প্রকাশ করতে হবে। বর্তমানে গুজব ও অপতথ্য শনাক্ত ও প্রতিরোধে সমন্বিত ফ্যাক্ট-চেকিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া, পরিবেশ রক্ষা এবং গুজব প্রতিরোধে সরকার, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’
গুইমারা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম, সহকারী তথ্য অফিসার তৌহিদ, গুইমারা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আলী, রামগড় উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিন লাভলু, গুইমারা উপজেলার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দুলাল আহমদ, রামগড় প্রেস ক্লাবের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বক্তৃতা করেন।
সভায় গুইমারা উপজেলার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম বিষয়ে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরেন।
















