চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে হারিয়ে যাওয়া সরকারি অস্ত্রের ৮৪ শতাংশ উদ্ধার হলেও বাকি ১৬ শতাংশ উদ্ধারে এবং সাজানো অপহরণের ঘটনা রোধে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব-৭।
আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত স্বেচ্ছায় ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব অস্ত্র বা গোলাবারুদের তথ্য দিলে তথ্যদাতার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সঠিক তথ্য দিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে সহায়তা করলে নির্ধারিত হারে নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে র্যাব-৭।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরের চান্দগাঁও মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান র্যাব-৭’-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
হারানো সরকারি অস্ত্র উদ্ধার ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে র্যাব।
র্যাব-৭ অধিনায়ক জানান, চট্টগ্রামের হারিয়ে যাওয়া বাকি ১৬ শতাংশ অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে র্যাবের নেতৃত্বে বিশেষ কার্যক্রম চলছে। এসব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত পুরো সমাজের জন্যই বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে যায়।
তাই ভয় না পেয়ে পরিত্যক্ত বা অন্য কোনোভাবে পাওয়া অস্ত্র র্যাবে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান মোস্তাফিজুর রহমান।
কেউ অস্ত্রের সন্ধান দিলে কিংবা গোপন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে তাকে পুরস্কৃত করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
রাইফেল, সাবমেশিন গান (এসএমজি), লাইট মেশিনগান (এলএমজি) ও স্নাইপারের তথ্য দিয়ে উদ্ধারে সহায়তা করলে ২ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। শটগান, পিস্তল ও গ্যাস গানের ক্ষেত্রে পুরস্কারের পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রতিটি সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার সেলের তথ্যের জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং সব ধরনের গোলাবারুদের ক্ষেত্রে প্রতি রাউন্ডের জন্য ৫০ টাকা হারে পুরস্কার দেওয়া হবে।
র্যাব-৭ চট্টগ্রাম ও র্যাব সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে জনস্বার্থে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণের ভুয়া অভিযোগ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি তিনটি অপহরণের খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে দেখা গেছে- একজন অনলাইন জুয়ায় ৩ লাখ টাকা হেরে আত্মগোপন করেছিলেন, একজন স্বজনদের বাড়ি গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলেন এবং অন্যজন পরিবারের ওপর রাগ করে চলে গিয়েছিলেন। এ ধরনের সাজানো অভিযোগে বাহিনীর দীর্ঘ সময় ও জনবল অপচয় হয়, যা প্রকৃত অপরাধ দমনে বড় বাধা সৃষ্টি করে।’
এ ছাড়া চট্টগ্রামে অপরাধীদের আস্তানা জঙ্গল সলিমপুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেখানে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের পর থেকে কোনো বড় ধরনের অপরাধ ঘটেনি। পুরোপুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হবে না। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বিদেশি অপরাধীদের ছদ্মবেশে অবস্থান ঠেকানোসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সতর্ক নজরদারির বহাল থাকবে।’
















