চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালকে রোগীবান্ধব হাসপাতালে পরিণত করতে নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটির মেয়র ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন।
রোববার (৯ আগস্ট) হাসপাতালের বটতলার সংস্কার ও আধুনিকায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে এ তথ্য জানান তিনি।
চমেক হাসপাতালের ঐতিহ্যবাহী বটতলার সৌন্দর্যবর্ধন, আধুনিকায়ন এবং সেবাগ্রহীতাদের জন্য আরও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে উদ্যোগ নিয়েছে এপিক হেলথ কেয়ার লিমিটেড। হাসপাতালের বিভিন্ন সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অপেক্ষার সময়ের ক্লান্তি ও মানসিক চাপ কিছুটা লাঘবের পাশাপাশি হাসপাতাল প্রাঙ্গণের সৌন্দর্য ও নান্দনিকতা বৃদ্ধিতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সৌন্দর্যবর্ধনে এপিক হেলথ কেয়ারের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর চমেক গড়ে তুলতে এর আগেও এপিক হেলথ কেয়ার ডাস্টবিন বিতরণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতেও তারা এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে—এটাই প্রত্যাশা।’
‘চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে শুধু চিকিৎসাসেবার কেন্দ্র নয়, রোগীবান্ধব, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, তিন শিফটে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত রয়েছে, মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং পানি সংকট নিরসনে নতুন গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।’
শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালের আশপাশের এলাকাকে যানজট ও অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। চকবাজার অলি খাঁ মসজিদ থেকে প্রবর্তক মোড় এবং ওয়ালি বেগ খাঁ মসজিদ থেকে মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত এলাকাকে ধীরে ধীরে শৃঙ্খলার আওতায় আনা হচ্ছে। পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি সবুজায়ন ও নান্দনিক পরিবেশ তৈরির কাজও চলমান রয়েছে।’
‘চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর রোগীর অতিরিক্ত চাপ কমাতে কালুরঘাট এলাকায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে একটি আধুনিক জেনারেল হাসপাতাল এবং বন্দর-পতেঙ্গা এলাকায় আরেকটি বড় হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও এগিয়ে চলছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’
এপিক হেলথ কেয়ার লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর টিএম হান্নান বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা শুধু চিকিৎসা প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও মানবিক পরিবেশও সুস্থতার অংশ। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়নে অবদান রাখতে পেরে আমরা আনন্দিত। পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক চমেক গড়ে তুলতে এপিক হেলথ কেয়ারের এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রোগী ও তাদের স্বজনরা যেন হাসপাতালের দীর্ঘ অপেক্ষার সময়টুকু তুলনামূলক স্বস্তি ও প্রশান্তির সঙ্গে কাটাতে পারেন, সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই বটতলার সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে এপিক হেলথ কেয়ারের ডিরেক্টর মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, ডিজিএম সৌমেন পালিত, ডিজিএম সুমন রঞ্জন ভৌমিক, ডিজিএম আমিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, চমেক হাসপাতালের পরিবেশকে আরও পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও সেবাবান্ধব করে তুলতে এর আগেও বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এপিক হেলথ কেয়ার। ধারাবাহিক এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এবার হাসপাতালের ঐতিহ্যবাহী বটতলার সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়নে এগিয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।
















