চট্টগ্রাম : শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।’
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা (আইপিএস) রাখারও নির্দেশনা দেন তিনি, যাতে পরীক্ষার কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে মনিটরিং করা যায়।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) চট্টগ্রাম কলেজের অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬’ উপলক্ষে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সাথে মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালে যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সভায় এহছানুল হক আরও বলেন, ‘পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় কঠোর তল্লাশি নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই নকল বা অবৈধ উপকরণ নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। কেন্দ্রসচিবদেরকে এই বিষয়ে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে।’
তিনি উল্লেখ করেন, খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নার্যতা ও স্বচ্ছতার উপর গুরুত্বারোপ করতে হবে, আংশিক উত্তরের জন্য আংশিক নম্বর প্রদান করতে হবে, তবে অযাচিতভাবে নম্বর বাড়ানো বা কমানো যাবেনা।
এক্ষেত্রে খাতা মূল্যায়নে র্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতি চালুর কথাও জানান মন্ত্রী।
প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার ‘পাবলিক পরীক্ষা আইন’ আরো শক্তিশালী করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পাশাপাশি সাইবার অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘ভবিষ্যতে সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে মূল্যায়নে সমতা নিশ্চিত হয়।’
এছাড়া শিক্ষার মান উন্নয়নে ইন-হাউস কোচিং চালুর ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বাইরের কোচিং নির্ভরতা কমাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।’
চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। কেন্দ্র সচিবদের পক্ষে বক্তব্য দেন জামালখান কুসুম কুমারী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লোকমান উদ্দিন লাহেড়ী, দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. মহসিন ভূঁঞা এবং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আতিকুর রহমান।
বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিঞা মোহাম্মদ নুরুল হক এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রুহুল আমিন। সমাপনী বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. একেএম সামছুউদ্দিন আজাদ।
সভার শেষ পর্যায়ের উন্মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন সমস্যা ও বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো তুলেধরে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
মন্ত্রী তাদের বক্তব্য শুনে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনার কথা জানান।
















