চট্টগ্রাম : ভাই-বোনের নিখাদ ভালোবাসা এবং আমাদের তথাকথিত সমাজে তাদের জীবনের করুণ পরিণতির গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে সামাজিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মায়া’। এতে ফুটে উঠেছে ভাই-বোনের মধুর ও আত্মিক সম্পর্কের গল্প, যা সামাজিক অবহেলা ও নির্যাতনের মুখে এক সময় এক হৃদয়বিদারক রূপ নেয়।
গল্পে দেখা যায়, সমাজের নানা হেয়প্রতিপন্ন আচরণ ও সামাজিক বঞ্চনা সয়েও ভাই-বোন বড় হতে থাকে। তবে সংসারে দারিদ্র্য ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে ছোট বোনটিকে বখাটেদের হাত থেকে রক্ষা করতে ভাই তার অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেয়। ভায়ের স্বপ্ন ছিল বোনকে পড়াশোনা করে ডাক্তার বানাবে। ভালোবাসার টানে ভাই তার বোনের সেই স্বপ্নে পূরণ করার আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো সমাজে বখাটেদের কাছে। কিন্তু বিয়ের পর বোনটির জীবন যেন আরও আঁধারে ঢেকে যায়। সেখানে সে পড়ে এক নির্মম বাস্তবতার মুখে—মাদকাসক্ত স্বামী ও শ্বাশুড়ির অমানসিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন কেড়ে নেয় তার জীবনের আনন্দ। এমন করুণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই ইতি ঘটে ভাই-বোনের ভালোবাসার ও মায়ার সম্পর্কের।
চলচ্চিত্রটির তৃতীয় প্রদর্শনী আগামী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে চট্টগ্রামের জেলা শিল্পকলা একাডেমির আর্ট গ্যালারিতে। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন নাসরিন আক্তার। সহপরিচালনায় ছিলেন সীমান্ত বড়ুয়া এবং সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সায়েম উদ্দীন। ক্যামেরায় ছিলেন মো. ফয়েজ ।
চলচ্চিত্রটির অন্য নেপথ্য কারিগররা হলেন রচনা ও গীত রচনা শাহীন চৌধুরী, সুরকার, ফুয়াদ নাছির বাবু, কণ্ঠশিল্পী মো. সেলিম ও তামান্না তুমি।
বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রুদ্র তালুকদার, রাবেয়া জামান অ্যাঞ্জেলা, পাভেল, সুনীল ধর, হেমা বড়ুয়া, মেহেদী হাসান ফয়সাল, মোশাররফ ভুইঁয়া পলাশ, গেলাম মাওলা জসীম, নাহীদ, এসবি, অনিমেষ, জাওয়াদ ফাহিম, অঙ্কন বড়ুয়া, ফাহিম, জহীর, তানভীর, বীনা দাস, জেমিমা খান, দেবদূহীতা, শিশু শিল্পী সায়ন্তী, আদ্রীয়ান, আরোহী, কথা।
নির্মাতাদের প্রত্যাশা, ‘মায়া’ দেখতে দর্শকরা শিল্পকলা একাডেমিতে আসবেন এবং তাদের কাজের অনুপ্রেরণা জোগাবেন, যাতে তারা ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে পারেন।
















