পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ভাটিখাইন ইউনিয়নের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসা ভাটিখাইন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র। তবে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত চিকিৎসকের অভাব, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতির সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র, কৃষক, শ্রমজীবী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রটিতে নিয়মিত চিকিৎসক পদায়ন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন ভাটিখাইন উন্নয়ন ফোরামের আহ্বায়ক ও সাংবাদিক এএইচএম কাউছার।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে ভাটিখাইন উন্নয়ন ফোরামের পক্ষ থেকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে লিখিত আবেদনপত্র দেওয়া হয়েছে। আবেদনপত্রটি স্থানীয় সাংসদ, জেলা সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও ১৪ নম্বর ভাটিখাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভাটিখাইন উন্নয়ন ফোরামের উপদেষ্টা মোহাম্মদ নাছির, কাজী নাজিম উদ্দিন, আশিকুল মোস্তফা তাইফু, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তালেব, মজিবুর রহমান সোহেল, এএইচএম কাউছার প্রমুখ।
পটিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন আক্তার হিমু ভাটিখাইন উন্নয়ন ফোরামের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “১৪ নম্বর ভাটিখাইন ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র থেকে নিয়মিত জনস্বাস্থ্যবিষয়ক কাউন্সেলিং ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও আমরা জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “ভাটিখাইন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে একজন চিকিৎসকের মাধ্যমে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে।”
স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ১৫-২১ জনবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান শারমিন আক্তার হিমু।
তিনি জানান, এই কমিটির মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।
এএইচএম কাউছার বলেন, “গত দুই বছর ধরে ভাটিখাইন উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পে বিপুল সংখ্যক রোগীর উপস্থিতি এ অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপক চাহিদার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। কিন্তু কেন্দ্রটিতে নিয়মিত চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগীকে চিকিৎসার জন্য পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে তাদের অতিরিক্ত সময়, অর্থ ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।”
আবেদনপত্রে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে নিয়মিত একজন এমবিবিএস চিকিৎসক পদায়ন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, রোগ নির্ণয় সামগ্রী ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, কিশোর-কিশোরী ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার, কেন্দ্রের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি ও সেবার মানোন্নয়ন, স্থানীয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কার্যকর ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন, কেন্দ্রে যাতায়াতের রাস্তা পাকাকরণ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাইনবোর্ড, লিফলেট, ফেস্টুন ও অন্য প্রচারসামগ্রী সরবরাহেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
আশিকুল মোস্তফা তাইফু বলেন, “ইতোমধ্যে কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন সুবিধার উন্নয়নে ফোরাম সহযোগিতা করেছে। ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পের মাধ্যমে কেন্দ্রটির সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। তবুও স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কেন্দ্রটির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।”
কাজী নাজিম উদ্দিন বলেন, “ভাটিখাইন ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একজন এমবিবিএস চিকিৎসক পদায়ন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
















