বৈশাখের খরতাপে শুরু হয়েছিল বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। তীব্র গরমে জনজীবন হয়ে উঠেছিল অতিষ্ঠ। এরই মধ্যে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় রোববার দুপুর থেকেও চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে—কখনো মুষলধারে, কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি। সন্ধ্যার আগেই থেমে যায় বৃষ্টি।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। রোববার (৩ মে)। চট্টগ্রাম নগরীর কাজির দেউড়ির এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের পশ্চিম পাশের সড়ক। এক পাশে উঁচু অট্টালিকা, অন্য পাশে ফুটপাতজুড়ে অপেক্ষমাণ কিছু অসহায় মানুষ। কোনো একটি সংগঠন নিয়মিত সেখানে রাতের খাবার বিতরণ করে।

রেডিসন মোড় থেকে সড়কটি চলে গেছে সিআরবির দিকে। মাঝখানে জ্বলছিল সারিবদ্ধ সড়কবাতি। বৃষ্টি শেষে আলো-ছায়ার সেই দৃশ্য যেন নগরীকে নতুন রূপ দিয়েছে। প্রকৃতি আর নগরায়ণের মেলবন্ধনে মুহূর্তটি হয়ে উঠেছিল অনিন্দ্য সুন্দর। চারপাশও ছিল অনেকটা শান্ত ও শব্দহীন।
জ্বালানি সাশ্রয়ে সন্ধ্যার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে যখন দোকানপাট ও আলোকসজ্জা সীমিত করা হচ্ছে, তখন এমন নিরিবিলি ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ সচরাচর চোখে পড়ে না। দৃশ্যটি দেখে মনে হচ্ছিল যেন উন্নত কোনো দেশের নগরীর চিত্র।
হয়তো একদিন প্রকৃতিকে সঙ্গে নিয়েই আরও সৌন্দর্যমণ্ডিত ও আধুনিক হয়ে উঠবে চট্টগ্রামসহ পুরো বাংলাদেশ।
লেখক : সংস্কৃতিকর্মী, চট্টগ্রাম।
















