ঢাকা : রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিনব্যাপী শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ শেষে রাত ১টার দিকে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনা সম্পন্ন করে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করে।
ঘোষিত ফলাফলে প্রেসিডেন্ট পদে ড. মো. আলী আফজাল ২৩২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে আব্দুর রাজ্জাক তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২১৬ ভোট পেয়ে বিজয় অর্জন করেন।
নির্বাচনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রার্থীদের সক্রিয় উপস্থিতি ও ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো প্রক্রিয়াকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
সহ-সভাপতি-১ পদে মোহাম্মদ আকতার বিশ্বাস ২৫০ ভোট, সহ-সভাপতি-২ পদে আবু খালিদ মো. বরকতুল্লাহ ২৫৫ ভোট ও সহ-সভাপতি-৩ পদে এএফএম উবায়দুল্লাহ ২৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। অর্থ বিষয়ক সহ-সভাপতি পদে ড. মো. হারুন অর রশিদ ২৬২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এছাড়া চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহ-সভাপতি পদে মোহাম্মদ মোরশেদুল হাসান সর্বোচ্চ ৩১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়ে বিশেষভাবে নজর কাড়েন।
পরিচালক পদে মোহাম্মদ লাবিব বিল্লাহ ৩৩৮ ভোট পেয়ে শীর্ষস্থান অধিকার করেন, যা এ নির্বাচনের সর্বোচ্চ প্রাপ্ত ভোটগুলোর একটি। একই পদে উম্মে জাহান আরজু ও হাবিবুর রহমান হাবিব সমান ৩০৪ ভোট পেয়ে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
নির্বাচিত অন্য পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন এজেডএম কামরুদ্দিন, ক্যাপ্টেন মো. শাহ আলম, মো. খাজা নাজিবুল্লাহ, শেখ কামাল, মো. এমদাদুল হোসেন সোহেল, ড. এন জোহা, প্রফেসর মো. ফারুক আহমদ, তাসনোভা মাহবুব সালাম, মো. জহির আহমেদ, মো. জাহিদ হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মো. মোস্তফা কামাল, মো. এমদাদুল হক, মো. মাহবুবুর রহমান, এম ফখরুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল ফরহাদ ফিলিপ, সুরুজ সরদার ও গোলাম কিবরিয়া মজুমদার।
চট্টগ্রাম থেকে দুইজন পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন এএসএম আব্দুল গফফার মিয়াজী ও সারিস্ত বিনতে নুর। এছাড়া রিহ্যাব চট্টগ্রাম রিজিওন্যাল কমিটির ছয়জন সদস্য নির্বাচিত হন যথাক্রমে নূর মোহাম্মদ, ইঞ্জিনিয়ার এসকে নাজিম উদ্দিন, সৈয়দ ইরফানুল আলম, আশিস রায় চৌধুরী, হৃষিকেশ চৌধুরী ও এসএম শহিদুল্লাহ।
নির্বাচনে তিনটি প্যানেল অংশ নেয়। প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ প্রেসিডেন্ট, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স), ভাইস প্রেসিডেন্ট-২, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ ও ১০ জন পরিচালকসহ সব মিলে ১৫ পদে জয়লাভ করে। অপরদিকে, আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ ভাইস প্রেসিডেন্ট-১, ভাইস প্রেসিডেন্ট (চট্টগ্রাম) ও ১২টি পরিচালকসহ ১৪টি পদে জয় লাভ করে। জাগরণ প্যানেল থেকে কেউ জয়ী হতে পারেননি।
নতুন নেতৃত্ব আবাসন খাতের সব স্টেকহোল্ডার-ডেভেলপার, ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সাথে নিয়ে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
তারা আশা করছেন, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নীতিগত জটিলতা, উচ্চ নিবন্ধন ব্যয়, ব্যাংক ঋণের সীমাবদ্ধতা ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার ধীরগতিসহ বিভিন্ন সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান আসবে।
এছাড়া নতুন কমিটি একটি ব্যবসায়বান্ধব ও বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ তৈরি, আধুনিক নগরায়ন নিশ্চিতকরণ ও সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সমন্বিত উদ্যোগ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে আবাসন খাতে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
















