চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু সুফিয়ান বলেছেন, ‘জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি তথা নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকলে জনগণের সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে। দীর্ঘসময় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতির কারণে দেশের সকল সেক্টরের মানুষকে নানান ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল। জবাবদিহিতা না থাকায় জনগণের সমস্যা সমাধানে তারা কখনোও সচেষ্ট ছিল না। সাধারণ ব্যবসায়ীদের উন্নয়নে তাদের কোন কার্যকর ভূমিকা ছিলনা। আওয়ামী লীগের দুর্নীতি, লুটপাট ও দুঃশাসনের কারণে দীর্ঘ ১৬ বছর দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সহ সকল খাতে যে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে তার প্রভাব এখনোও বিদ্যমান। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যবসায়-বাণিজ্যসহ চলমান সকল সংকট নিরসন হবে। ব্যবসায়-বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে ও দেশী-বিদেশী নতুন বিনিয়োগ সৃষ্টি হবে।’
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের উদ্যোগে ‘চলমান বাণিজ্যিক সংকট উত্তরণ ও স্থিতিশীল বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সভায় আবু সুফিয়ান আরও বলেন, ‘বিএনপি একটি ব্যবসায়বান্ধব রাজনৈতিক দল। বিএনপির আমলেই দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রসার ও কর্মসংস্থান সবচেয়ে বেশি হয়েছে। আগামীতেও জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ব্যবসায়-বাণিজ্য পরিচালনায় সব বাধা দূর করা হবে। নতুন নতুন বিনিয়োগ সৃষ্টির মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। যারা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে ব্যহত করে, ব্যবসায়ের সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করে ঐ ধরণের সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজকে বিএনপি কখনো প্রশ্রয় দিবে না। সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আগামীর প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
সুখে-দুঃখে সাধারণ ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আবু সুফিয়ান বলেন, ‘খাতুনগঞ্জ বাংলাদেশের ব্যবসায়ের প্রাণকেন্দ্র। নানা কারণে ঐতিহ্যবাহি এই ব্যবসাস্থল তার ঐতিহ্য হারিয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে খাতুনগঞ্জের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখব। সাধারণ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবো।’
সভায় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ব্যবসায়-বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে নানা সংকট ও প্রতিবন্ধকতার কথা বক্তবের মাধ্যমে তুলে ধরেন। আবু সুফিয়ান মনোযোগ দিয়ে ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো শুনেন এবং বিএনপি ক্ষমতায় এলে সকল সমস্যার সমাধান হবে বলে আশ্বস্ত করেন।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমানের সঞ্চালনায়সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সদস্য আনোয়ার হোসেন লিপু, ইসমাঈল বালি, খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশন কার্যনির্বাহী সদস্য এসএম সেলিম, সিনিয়র সহ-সভাপতি আহমদ রশীদ আমু, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল বশর চৌধুরী।
বক্তব্য রাখেন এসোসিয়েশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আজাদ, মীর মো. সাজ্জাদ উল্লাহ, আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন, প্রচার প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফরিদুল আলম, দপ্তর সম্পাদক মো.আকবর আলী, কার্যনির্বাহী সদস্য আশুতোষ মহাজন, এসএম সেলিম, মো. রাশেদ আলী, আবুল কাশেম, পরিতোষ দে, সৈয়দ সাব্বির আহমেদ, জাবেদ ইকবাল, মীর মো. আহসান উল্লাহ রাসেল, সালাউদ্দীন আহমেদ, শাহেদুল ইসলাম, জহির উদ্দিন, মো. মামুন, নিজাম উদ্দিন, সাব্বির সোলায়মান চৌধুরী, সালাউদ্দিন চৌধুরী, মো. বেলাল হোসেন।
















