ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম : সদ্য ঘোষিত চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা সদর দপ্তর ভূজপুরের পরিবর্তে নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী যৌক্তিক স্থান ‘জুজখোলা মৌজায়’ স্থাপনের দাবিতে একযোগে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে উত্তর ফটিকছড়ির নারায়ণহাট, দাঁতমারা ও বাগান বাজার ইউনিয়নের সর্বমোট ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচী পালন করে।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের পাশাপাশি নিজ নিজ ক্যাম্পাস ও স্থানীয় প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ‘উত্তর ফটিকছড়ি সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।
কর্মসূচি চলাকালীন নারায়ণহাট আদর্শ ডিগ্রি কলেজ এবং হেঁয়াকো বনানী কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে রাজপথে নেমে আসেন এবং জোরদার বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য দাবীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে কর্মসূচীতে অংশ নেন এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো নারায়ণহাট আদর্শ ডিগ্রি কলেজ, হেঁয়াকো বনানী কলেজ, নারায়ণহাট ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসা, নারায়ণহাট উচ্চ বিদ্যালয়, নারায়ণহাট মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, শান্তিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়, শান্তিরহাট মিশকাতুন্নবী দাখিল মাদ্রাসা, দাঁতমারা এবিজেড সিকদার উচ্চ বিদ্যালয়, দাঁতমারা মঈনুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা, হেঁয়াকো বনানী উচ্চ বিদ্যালয়, হেঁয়াকো বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা, বালুটিলা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, বালুটিলা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, গজারিয়া জেবুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়, করালিয়া তাকিয়া নেছারিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা, চিকনছড়া উচ্চ বিদ্যালয়, বাগান বাজার উচ্চ বিদ্যালয়
সমাবেশে ছাত্রনেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, উত্তর ফটিকছড়ির নারায়ণহাট, দাঁতমারা ও বাগান বাজার—এই তিনটি ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা, মোট জনসংখ্যা ও সরকারি রাজস্ব আদায় অন্য অঞ্চলের চেয়ে অনেক বেশী হওয়া সত্ত্বেও আমরা বরাবরই মৌলিক নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। ভৌগোলিক দূরত্ব বিবেচনা না করে যদি ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর ভূজপুরে স্থাপন করা হয়, তবে প্রান্তিক এই তিন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের কোনো সুফল আসবে না। উল্টো তাদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।’
শিক্ষার্থীরা অনতিবিলম্বে জুজখোলা মৌজাকে সদর দপ্তর হিসেবে ঘোষণা করার জোর দাবি জানান।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া না হলে আগামীতে আরও কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচী ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন তারা।
















