সোহবাত খান : মঞ্চ জীবন্ত শিল্প মাধ্যম। একটি মঞ্চ প্রযোজনা একাধিকবার মঞ্চস্থ হলেও প্রতি রজনীতে উপস্থিত দর্শকরা যে অভিজ্ঞতা লাভ করেন তা অন্যান্য মাধ্যমের মতো স্মৃতির নিউরণে ছাড়া ধরে রাখা সম্ভব নয়। আলোকচিত্র নান্দনিক মাধ্যমগুলোর মধ্যে অন্যতম। মঞ্চের নান্দনিকতা আলোকচিত্রে ধরা পড়লে তা যেমন দর্শককে মঞ্চের প্রতি আকৃষ্ট করতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে, তেমনি চলমান মঞ্চ প্রযোজনা সময়ের প্রয়োজনে বন্ধ হয়ে গেলেও দর্শক ইমেজ বন্দী স্মৃতিতে প্রযোজনাগুলো সম্পর্কে, প্রযোজনার মান সম্পর্কে ও সময়ের চিত্র সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা লাভ করতে পারেন।
সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা এবং গবেষণায় সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘স্কেচ গ্যালারি’র উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমি চট্টগ্রামের সহযোগিতায় বিশ্ব নাট্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গত ২৭ ও ২৮ মার্চ একাডেমির আর্ট গ্যালারি ও এমএম আলী রোডে চট্টগ্রামের মঞ্চনাটক বিষয়ে ‘আলোকচিত্রে মঞ্চালোক’ শীর্ষক ২ দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে বিভিন্ন আলোকচিত্রী কর্তৃক গৃহীত ও সংগৃহীত স্বাধীনতাত্তোর চট্টগ্রামের উল্লেখযোগ্য মঞ্চ প্রযোজনার ১৫০টি নাটকের ছবি প্রদর্শিত হয়। ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম প্রদর্শনীটি জেলা শিল্পকলা একাডেমি চট্টগ্রাম, থিয়েটার ইনস্টিটিটিউট চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, পতেঙ্গা মাইজ পাড়া, ফিরোজশাহ্ কলোনিতে প্রদর্শনীটি আয়োজন করা হয় ও প্রশংসিত হয়। প্রদর্শনীতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঙ্গনের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোকচিত্রী শোয়েব ফারুকী বলেন, ‘স্কেচ গ্যালারির উদ্যোগে চট্টগ্রামের মঞ্চনাটক বিষয়ে ‘আলোকচিত্রে মঞ্চালোক’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী একটি অনন্য উদ্যোগ। প্রথম প্রদর্শনীতেও আমি উপস্থিত ছিলাম। এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে যেমন চট্টগ্রামের মঞ্চনাটকের ইতিহাস জানা যায়, তেমনি আলো, কম্পোজিশনের সমন্বয়ে দৃষ্টিনন্দন আলোকচিত্রও দেখতে পাওয়া যায়। এরকম একটি খোলা মাঠে যে এধরনের প্রদর্শনী করা যায় তা না দেখলে অজানা থেকে যেতো।’
নাট্যজন রবিউল আলম বলেন, ‘এ আয়োজনের পেছনে যারা যুক্ত, তারা চট্টগ্রামের থিয়েটার ইতিহাস সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে ভূমিকা অনস্বীকার্য। এলাকার মানুষকে চট্টগ্রামের নাট্যচর্চার ইতিহাস সম্পর্কে জানানোর জন্য ও তরুণদের নাট্যচর্চায় সম্পৃক্ত করার জন্য এ ধরনের আয়োজনের প্রয়োজন রয়েছে।’
নাট্যকার মিলন চৌধুরী বলেন, ‘মুক্ত রাস্তায় এ প্রদর্শনী দেখে পথ নাটক ‘যায় দিন ফাগুনো দিন’-এর কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। নাটকে চার দেয়ালে আবদ্ধ না রেখে যত বেশী জন সমৃক্ত করা যাবে তত নাটক জনপ্রিয় হবে ও দর্শক বৃদ্ধি পাবে। আগে এলাকায় এলাকায় বিভিন্ন দিবস ভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়েজন করা হতো। দীর্ঘদিন এধরনের আয়োজন চোখে পড়ে না। এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে যে যাত্রা শুরু হলো তা যেন থেমে না যায়। বর্তমানে ছেলেমেয়েরা ডিজিটাল ডিভাইসে যতটা সময় কাটায় সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে ততটা সক্রিয় নয়। এ লক্ষণ জাতির জন্য শুভ নয়। তরুণরা যত বেশী সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হবে তত তারা বিপথ হতে নিজেদের রক্ষা করতে পারবে।’
স্কেচ গ্যালারি নন্দন’-এর ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর শাহরিয়ার হান্নান বলেন, ‘পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে প্রদর্শনীতে নানা ত্রুটি বিচ্যুতি থাকলেও সদিচ্ছার কোন অভাব ছিল না। তবে ক্ষুদ্র প্রয়াসে চট্টগ্রাম নাট্যাঙ্গনের থিয়েটার কর্মীদের উচ্ছ্বাস ও একাত্মতা সৃজনশীল প্রয়াস চলমান রাখতে উৎসাহ যোগাবে।’
















