চট্টগ্রাম : মাছের উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের মানুষের প্রাণিজ প্রোটিনের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত মাছ বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নগরীর বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় আয়োজিত ‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে পোনামাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে তিনি এ গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কর্মসূচিতে মেয়র বলেন, ‘মাছ মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস। মাছের তেলে থাকা উপাদানও মানবদেহের জন্য উপকারী। তাই মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক উৎসগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি।’
‘বাংলাদেশ নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ে সমৃদ্ধ একটি দেশ। বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে প্রতিবছর অনেক মাছের পোনা ও মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে মাছের উৎপাদন ও প্রজনন যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নজর দিতে হবে।’
শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদগুলোর একটি হলো পানি ও জলজ সম্পদ। এসব সম্পদ সংরক্ষণ করতে হবে। মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদনের পরিবেশ ঠিক রাখতে পারলে দেশের মানুষের মাছের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানির সুযোগও আরও বাড়ানো সম্ভব।’
‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রপ্তানি আয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তৈরি পোশাক ও প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে। এর পাশাপাশি মৎস্য খাতকে আরও শক্তিশালী করে দেশীয় চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত মাছ রপ্তানি করা গেলে অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।’
মেয়র বলেন, ‘মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাছের প্রজাতি ও জলজ সম্পদ সংরক্ষণে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। জলাশয় ও মাছের প্রজননক্ষেত্র রক্ষা করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও এ সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।’
পোনামাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে জলাশয়ে মাছের উৎপাদন ও প্রজনন বাড়ানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মেয়র সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।
একই সঙ্গে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মৎস্য বিভাগের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রজাতির পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়।
















