চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা শাখার উদ্যোগে নগরীর নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়ে ‘ডেঙ্গু রোগ প্রতিকার নয়, প্রতিরোধে উত্তম উপায়’ বিষয়ক স্বাস্থ্য শিক্ষা সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে এ সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা আকতারের সভাপতিত্বে সেশনে অতিথি ছিলেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার থোয়াইনু মং মার্মা, স্কুল হেলথ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. ফারজানা ইয়াসমিন, এমএসএফের হেলথ প্রমোশন ম্যানেজার মনিময় চাকমা ও ব্র্যাকের প্রতিনিধি।
অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে টিভিসি প্রদর্শন ও মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। পরে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়।
সেশনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছুই নেই। এডিস মশার বংশ বিস্তার রোধ করার মাধ্যমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব। এয়ার কন্ডিশনার, ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, ড্রাম, পরিত্যক্ত টায়ার, মাটির পাত্র, বালতি, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা, নারিকেলের মালা, কন্টেইনার, মটকা, ব্যাটারী শেল ও পরিস্কার পানিতে এডিস মশা ডিম পারে। ঘর ও আশপাশের যে কোন পাত্রে বা জায়গায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিস্কার করলে এডিস মশার লার্ভা মরে যায়। জীবন বাঁচানোর জন্য যেকোন উপায়ে এডিস মশা ধ্বংস করতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং মশারি ব্যবহারের মাধ্যমে ডেঙ্গু সংক্রমণ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার কোন বিকল্প নেই।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু একটি মশা-বাহিত ভাইরাল সংক্রমণ; যা বিশ্বের অনেক অঞ্চলে একটি উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য হুমকির সৃষ্টি করে। ডেঙ্গু জ্বরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জনস্বাস্থ্যের প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডেঙ্গু একটি ভাইরাস জনিত রোগ; যা জীবাণুবাহিত এডিস মশা সুস্থ মানুষকে কামড়ানোর মাধ্যমে ছড়ায়। ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে এডিস মশার বংশবিস্তারের স্থানগুলো নষ্ট করে দিতে হবে। ঘরের আশে পাশে যাতে জমানো পানি না থাকে সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে হবে।’
















