চট্টগ্রাম : প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬ আগামী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথমার্ধে চট্টগ্রাম হতে শুরু হবে। দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ এ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ৯ আগস্ট হওয়ার কথা থাকলেও চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক বন্যা, ক্ষয়ক্ষতি ও পুনর্বাসন প্রভৃতি সার্বিক দিক বিবেচনায় এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ১ মাস পিছিয়ে সেপ্টেম্বর মাসে নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে এ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের কথা রয়েছে। তবে উপজেলা পর্যায়ে খেলা নির্দিষ্ট সময়ে চলতে থাকবে। এ প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্যায়ে ৪০ হাজার ২৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে বাছাই করে দল গঠন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য (এমপি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ ও আবু সুফিয়ান, টুর্নামেন্ট কমিটির আহ্বায়ক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বক্তৃতা করেন।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ঢাকা ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ প্রতিযোগিতায় দেশের ১৯ হাজার ২১১ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১ হাজার ৫৫৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৩ হাজার ৩৮০টি কলেজ, ৯ হাজার ২৯৬টি মাদ্রাসা, ৬ হাজার ৭৮৮টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।
প্রতিযোগিতা মাধ্যমিক পর্যায়ে বালক ও বালিকা দল এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পর্যায়ে বালক ও বালিকা দল গঠনের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ের খেলা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর উপজেলা পর্যায়ে সম্পন্ন হবে এবং শেষ হওয়ার পর জেলা, শিক্ষা অঞ্চল (বিভাগ) এবং জাতীয় পর্যায়ে সম্পন্ন হবে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের খেলা ৬ অক্টেবর শুরু হয়ে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে জাতীয় পর্যায়ে গিয়ে শেষ হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ে বালক ও বালিকা এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বালক ও বালিকা দল এ চার ক্যাটাগরিতে ৮ অঞ্চলের ৩২টি দল নিয়ে ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের খেলা অনুষ্ঠিত হবে। মোট ৪টি দল জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করবে। এছাড়া সেরা থিম সং, রিল মাস্কাট তৈরিকৃত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকেও পুরস্কৃত করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এ প্রতিযোগিতা শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়; এটি দেশের শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে একটি বৃহৎ ক্রীড়া উদ্যোগ। মেধাবী ফুটবলার নির্বাচন করে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরি, স্কুল কলেজ পর্যায়ে নিয়মিত ফুটবল চর্চার পরিবেশ সৃষ্টি এবং ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা – এ প্রতিযোগিতার অন্যতম উদ্দেশ্য। তাছাড়া এর মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মাদক সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় হতে দুরে রেখে ইতিবাক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করা যাবে। ফলে তাদের মধ্যে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা সৌহার্দ্র ও দলগত মনোভাব গড়ে উঠবে।’
ইতোমধ্যে সারা দেশে এ প্রতিযোগিতা আয়োজনের যাবতীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রতিযোগিতার সফল আয়োজনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
পরে শিক্ষামন্ত্রী ও অতিথিরা এ বিষয়ক রোড় শো তে অংশ নেন। রোড শো শেষে তারা জেলা স্টেডিয়ামের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন ও কর্মরতদের বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দেন।
















