চট্টগ্রাম : বাইরে বৈশাখের অপ্রত্যাশিত অঝোর ধারা, ভেতরে কণ্ঠের মেঘমল্লার। এমনই এক বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় ‘চির-অবনত তুলিয়াছে আজ গগনে উচ্চ শির’ শিরোনামে কবিতার কাছে সমর্পিত হলো চট্টগ্রামের আবৃত্তিপ্রেমীরা।
শনিবার (২ মে) সন্ধ্যায় থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামের (টিআইসি) আর্ট গ্যালারিতে মঞ্চস্থ হলো আবৃত্তিযোগের অভিনব নিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ও সিলেটের ছয় তরুণ শিল্পী শোনালেন দেশ-বিদেশের কবিদের কবিতা।
বয়ান শিল্পাঙ্গনের সদস্য রচয়িতা দেবী ঐশীর সাবলীল সঞ্চালনায় একে একে মঞ্চে আসেন শিল্পীরা। প্রেম থেকে দ্রোহ, প্রকৃতি থেকে মানবতা— কণ্ঠের ওঠানামায় জীবন্ত হয়ে ওঠে কবিতার প্রতিটি পঙক্তি। দর্শক নিস্তব্ধ মুগ্ধতায় ডুবে ছিলেন প্রায় দেড়ঘণ্টা।
আবৃত্তি করেন মুক্তাক্ষর সিলেটের হিমেল মাহমুদ; নির্মাণ আবৃত্তি অঙ্গনের অর্ণব বড়ুয়া ও পুষ্পা সর্ববিদ্যা; কন্ঠনীড় বাচিক শিল্পচর্চা কেন্দ্রের তাজুল ইসলাম ও শব্দনোঙর আবৃত্তি সংগঠনের সায়েম উদ্দীন ও সাবিহা আক্তার।
আবৃত্তি পর্ব শেষে ‘কথামালা’য় শিল্পীদের পরিবেশনার চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন অতিথিরা।
নাট্যজন শুভ্রা বিশ্বাস বলেন, ‘আজকের আবৃত্তিশিল্পীদের কণ্ঠে যে স্বাভাবিকতা, দৃঢ়তা ও মমতা দেখলাম, তাতে আমি সত্যিই অভিভূত। বাচিক শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হওয়াই যায়।’
আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসান বলেন, ‘এ সময়ে এমন আয়োজন আমাদেরকে আশাহত সময় থেকে আশাবাদীর দিকে নিয়ে যায়।’
আরও অতিথি ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান মাহফুজ ও প্রবীর পাল।
অতিথিরা শিল্পীদের উচ্চারণ, স্বরপ্রক্ষেপণ ও কবিতার ভাবানুভূতির প্রশংসা করেন। তারা বলেন, ‘এই ধরনের ধারাবাহিক আয়োজন শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চার পথকে আরও প্রশস্ত করবে।’
আবৃত্তিযোগ জানিয়েছে, অন্ধকারচ্ছন্ন সমাজকে শানিত করে আলোর আধিক্য বাড়ানোই তাদের এই ধারাবাহিক আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
















