পটিয়া, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আল জামিয়া আল ইসলামিয়া আরাবিয়া পটিয়া মাদ্রাসার মহাপরিচালক (মুহতামিম) মাওলানা আবু তাহের কাসেমি নদভী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে তিনি সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পটিয়া মাদ্রাসার পরিচালক (ভূমি) মাওলানা মিজানুর রহমান।
তিনি জানান, আবু তাহের কাসেমি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তর নিচিন্তাপুর গ্রামে। তবে পটিয়া মাদ্রাসার সঙ্গে তার জীবনের দীর্ঘ সময় জড়িয়ে ছিল। সোমবার রাত ১১টায় পটিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে মাদ্রাসার কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, মাওলানা আবু তাহের কাসেমি ১৯৬০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম নাজির আহমদ। শৈশবেই পারিবারিক পরিবেশে দ্বীনি শিক্ষার হাতেখড়ি হয় তার। পরবর্তী নানুপুর, জামিয়া ইউনুসিয়া এবং আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ায় তিনি অধ্যয়ন করেন। ১৯৮০ সালে দাওরায়ে হাদিস এবং ১৯৮১ সালে ইফতা সম্পন্ন করেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ভারত ও পাকিস্তানে সফর করেন। দারুল উলুম দেওবন্দে পুনরায় দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন এবং নদওয়াতুল উলামায় আরবি ভাষা ও সাহিত্যে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ায় শিক্ষকতা শুরু করেন। হাদিস ও আরবি সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্বেও যুক্ত ছিলেন এবং দারুল ইকামার নাজিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি মাদ্রাসার মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তী ২০২৫ সালের অক্টোবরে আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তার ইন্তেকালে দ্বীনি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন মহল থেকে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে।
















