চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটির হালিশহরের একটি বাসায় বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম শাখাওয়াত হোসেন (৪৯)। তিনি পেশায় মোটর পার্টস ব্যবসায়ী।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ পাঁচজনের মৃত্যু হলো।
শাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘সকালে শাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যু হয়। দগ্ধ অন্য ৪জন শঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।’
নিহত শাখাওয়াত হোসেনের ব্যবসায়িক অংশীদার মনসুর আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘শাখাওয়াতের লাশ কুমিল্লায় তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সেখানেই লাশটি দাফন করা হবে।’
বিস্ফোরণটি কী কারণে হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, রান্নার চুলা থেকে গ্যাস লিকেজের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে। অন্য কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।’
এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি পৃথকভাবে দুইটি তদন্ত কমিটি করেছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে তদন্ত শেষ হলে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
প্রসঙ্গত, গেল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হালিশহরের হালিমা মঞ্জিল নামের ছয়তলা ভবনটির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ফ্ল্যাটে মোটর পার্টস ব্যবসায়ী শাখাওয়াত হোসেন পরিবার নিয়ে থাকতেন। বিস্ফোরণে বাসায় থাকা ৯ জন দগ্ধ হন। এর মধ্যে সোমবার শাখাওয়াতের স্ত্রী নুরজাহানের মৃত্যু হয়। পর দিন গতকাল মঙ্গলবার মৃত্যু হয় তার ছেলে সাফায়াতের। এ ছাড়া মঙ্গলবার শাখাওয়াতের পর্তুগালপ্রবাসী ভাই সামির ও সামিরের স্ত্রী আয়েশা আকতারের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণে দগ্ধ অবস্থায় বর্তমানে চারজন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।
















