চট্টগ্রাম : শ্রুতিঅঙ্গনের ১৫তম বর্ষের নিয়মিত শাস্ত্রীয়-উপশাস্ত্রীয় সংগীতানুষ্ঠান আয়োজনের মধ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস স্মরণে শাস্ত্রীয়-উপশাস্ত্রীয় সংগীতানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে (টিআইসি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পার্থ প্রতিম বিশ্বাস ও প্রণিতা দেবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ও প্রধান অতিথি ছিলেন দৈনিক আজাদীর সহযোগী সম্পাদক রাশেদ রউফ।
তিনি বলেন, ‘বাংলা সাহিত্যে নজরুলের মত অসাম্প্রদায়িক, বিষ্ময়কর প্রতিভাবান ও দুঃসাহসিক আর কোন কবি নেই। তিনি বলেছেন, গাহি সাম্যের গান–মানুষের চেয়ে কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি, সব দেশে, সব কালে, ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।’
‘রবীন্দ্রনাথ হল বাঙালির মাথার উপর ছাতা আর নজরুল হল অন্তরাত্মা। তিনি প্রায় শত বছর আগেই সাহসিকতার সহিত অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে তাঁর গান, কবিতা, নাটক, উপন্যাসে দেশাত্মবোধক, নারী জাগরণ, ইসলামী, শ্যামাসংগীত, বিদ্রোহ, গজল, প্রেম, প্রকৃতি, রাগপ্রধান, ভাটিয়ালি, পল্লীগীতি- এভাবে বিভিন্ন পর্যায়ের গান ও কবিতা রচনা করেছেন। তার সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলেই আকাশ সংস্কৃতির যুগে বর্তমান সমাজে যে অস্থিরতা হিংসা, হানাহানি তা নিসন্দেহে কমে আসবে। শ্রুতিঅঙ্গন দীর্ঘদিন যাবৎ সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রশিক্ষক লিটন দাশ। শুভেচ্ছা বক্তব্যে রাখেন শ্যামল বিশ্বাস, প্রণব দে ও সঞ্জয় দে।
সভাপতির বক্তব্যে সুজিত ভট্টাচার্য দোলন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে প্রায় কোন কর্পোরেট সুবিধা ছাড়া শুধু পরিষদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় শ্রুতিঅঙ্গন এই পযর্ন্ত এসেছে।’
তিনি সরকারসহ বিত্তবানদের পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং প্রচার প্রসারে অবদানের জন্য ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
দ্বিতীয় পর্বের শুরুতে মঙ্গলদ্বীপ প্রজ্জোলনের মাধ্যমে অনিল কুমার ঘোষের কথা ও উস্তাদ নীরদ বরণ বড়ুয়ার সুরে এবং লিটন দাশের সংগীতায়জনে ভৈরবী রাগ প্রধান গান আদ্দা তালে বাজে মোহন বেণু কদম কাননে সখী এবং নজরুলের পটদীপ রাগে হে প্রিয় আমারে দিব না ভুলিতে, প্রার্থনা সংগীত অনাদিকাল হতে অনন্ত লোক গাহে তোমারি জয়, মোরা আর জনমে হংস-মিথুন ছিলাম, চাঁদের কন্যা চাঁদ সুলতানা চাঁদের চেয়েও জ্যোতি, ৫টি সমবেত রাগপ্রধান গান ও নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন শ্রুতিঅঙ্গনের শিল্পীবৃন্দ।
এর পর একক সংগীত পরিবেশনায় রাগ- মেঘমল্লার পরিবেশন করবেন লিটন দাশ। তবলায় ছিলেন তিষাণ ঘোষ, হারমোনিয়ামে অনির্বান দত্ত, তানপুরায় নিপা দত্ত ও নীলকান্ত ভৌমিক।
রঞ্জসী শাহি দিলহি দোকান এক- গজল- মিশ্র ইমন রাগে অনির্বান দত্ত, রঙ্গী সারি গোলাবি চুনেরিয়া- রাগ মিশ্র পাহাড়ি-ঠুমরী- মনস্বিতা চৌধুরী, আয়েনা বালমা কা করু সজনী- ভৈরবী- সৃজিতা দে, চাঁদের মত নিরবে এসো প্রিয় -নজরুল সংগীত – শিবরঞ্জনী- প্রণিতা দেব, এ কেমন রাত্রি এলো ভোর -রাগপ্রধান গান- দাদরা- শিবরঞ্জনী – পুষ্পিতা শীল, এলো ওই পূর্ণ শশী নজরুল সংগীত- নিলয় দত্ত-দাদরা, সাচি বলো শ্যাম- পাপড়ি দাশ, আমার দেয়া ব্যাথা ভোলো – মেঘলিনা ঘোষ, দাঁড়ালে দুয়ারে মোর- নজরুল সংগীত-দাদরা, মেরে হাম না ফাস মেরে হাম নাবা- দরবারী রাগে গজল- নিপা দত্ত – রুপক তাল। আমার বিফল পূজাঞ্জলি, নজরুল সংগীত বিনয় দাশ।
বাঁশীতে ছিলেন রাহুল সরকার, কিবোর্ডে নিখিলেশ বড়ুয়া, বেহালায় শ্যামল চন্দ্র দাশ, অক্টোপ্যাডে নন্দন নন্দী, তবলায় তিষাণ ঘোষ ও শ্রীয়ম দে।
















