চট্টগ্রাম : শহরজুড়ে পহেলা বৈশাখে একটি দল ছিল ভিন্ন, তারা কোন সংগঠনের শিল্পী না, তারা হলেন শিল্পীদের অভিভাবক।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) চট্টগ্রামে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে ডিসি হিল, শিল্পকলা একাডেমি, সিআরবি বা পাঁচলাইশ জাতিসংঘ পার্ক; যেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে ক্ষুদে, বড় শিল্পীদের সাথে ছুটেছেন তারাও। যাদের নিরলস পরিশ্রম তৈরি করছে শিল্পী।
শিল্পীরা যে মঞ্চে পারফরম্যান্স করে দর্শকদের বিনোদন দেয়, সেই শিল্পীদের পিছনে পিলারের মত কাজ করেন এই অভিভাবকরা। যারা আমাদের শিল্প সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে চুপিসারে। অর্থ, সম্পদ, শ্রম- সব দিয়ে তারা তাদের সন্তানকে তৈরি করতে চেষ্টা করে শিল্পী হিসেবে।
নৃত্যরূপ একাডেমি নৃত্য দলের প্রশিক্ষণার্থী শিল্পীদের অভিভাবকেরা সন্তানদের সাথে নিজেরাও সেজেছে। পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ যে সবার। অভিভাবকরা তাই নিজেরা একই সাজে গ্রুপ হয়ে। যা এনেছে বৈচিত্র্য।
শিল্পকলা একাডেমি চট্টগ্রাম ফ্যান গ্রুপের এডমিন ফোরকান রাসেল এই দলকে দেখে বলেন, ‘শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে পিছনে থেকে কাজ করে যাওয়া অভিভাবকদের জানােই অন্তরের অন্তস্তল থেকে কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা। তাদের এমন একত্রিত হয়ে সাজ আসলেই ভিন্নতা, যা নববর্ষকে রঙ্গিন করেছে।’
নৃত্যরূপ একাডেমির পরিচালক ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির চট্টগ্রামের নৃত্য প্রশিক্ষক প্রিয়াঙ্কা বড়ুয়া বলেন, ‘অভিভাবকদের এই স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন, সহযোগিতা ও সাহস সংস্কৃতি জগতে আমাদের কাজ সহজ করে দেয়। শুধু নৃত্য নয়, গান, আবৃত্তি ও নাটকসহ শিল্প সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করা প্রতিটি শিল্পীর অভিভাবকেরা শিল্প সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করতে শরীরের রক্তের মত এরা কাজ করে। অভিভাবকদের এমন সাজ দেখে ইচ্ছে হচ্ছিল এই অভিভাবকদেরকেও মঞ্চে তুলে দিই কোন পারফরম্যান্স করার জন্য।’
আইরিন কেমি নামে অভিভাবক বলেন, ‘সন্তানদের জন্য কিছু করতে পারলে আমরা অভিভাবকদের ভালো লাগে। সেই সন্তানরা যেখানে যে কাজ করুক আমরা সবসময় তাদের সাথে সহযোগী হিসেবে থাকতে চাই। তাই আমরা
নৃত্যরূপ একাডেমির অভিভাবকরা পহেলা বৈশাখে সন্তানদের সাথে নিজেরাও সেজে চেষ্টা করেছি, আমাদের বাংলা নববর্ষকে উদযাপন করতে।’
















