আনোয়ারা, চট্টগ্রাম : অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘দেশে এখনও তেলের কোনো সংকট তৈরি হয়নি। তবে উচ্চ মূল্যে তেল ও গ্যাস কতদিন এভাবে চালানো সম্ভব হবে, তা চিন্তার বিষয়। তাই শিগগিরই তেলের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলার ইপিজেড এলাকাস্থ ইয়ংওয়ান কর্পোরেশনের মিলনায়তনে ইয়ংওয়ান- চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভ্যার্সটির (সিআইইউ) একাডেমিক এক্সিলেন্স স্কলারশিপ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনুষ্ঠানে আমির খসরু আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনও বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে পর্যাপ্ত সহযোগিতা গড়ে ওঠেনি, যা শিক্ষা ও গবেষণার উৎকর্ষ সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিল্পখাতের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে, যার ফলে শিক্ষার মান এবং গবেষণার ক্ষেত্র উভয়ই সমৃদ্ধ হয়। বাংলাদেশে সাধারণ শিক্ষার প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক থাকায় অনেক শিক্ষিত ব্যক্তি বেকার অবস্থায় রয়েছেন। ম্যাট্রিক, আইএ, বিএ, মাস্টার্স এমনকি পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের মধ্যেও বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্য। তাই প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে।’
‘বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দ্রুত পরিবর্তন আনছে। যে দেশগুলো প্রযুক্তিতে এগিয়ে, তারাই ভবিষ্যতের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের পাঠ্যক্রমে প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নতুন নতুন প্রযুক্তি-ভিত্তিক অনুষদ সংযোজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো সম্ভব, যা দেশ-বিদেশ উভয় ক্ষেত্রেই তাদের ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বৈশ্বিক তেলের সংকট শুধু বাংলাদেশ নয়, আমেরিকাসহ সারা বিশ্বকে প্রভাবিত করছে। দেশের অধিকাংশ তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে এবং সংকট মোকাবিলায় সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ চালু রেখেছে।’
‘সর্বোপরি জ্বালানি নিরাপত্তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কোনও কম্প্রোমাইজের সুযোগ নেই।’
সংকট মোকাবিলায় সাশ্রয় প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সবাইকে এতে অংশ নিতে হবে এবং জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।’
পুঁজিবাজার সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করা হবে। ব্যাংক ঋণ নির্ভর বিনিয়োগের তুলনায় পুঁজিনির্ভর বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হবে।’
তিনি নতুন সরকারের সফলতার কথাও তুলে ধরে বলেন, ‘সবকিছুর সাপ্লাই চেইন অব্যাহত রয়েছে। এটি একটি চ্যালেঞ্জ, যার মোকাবিলায় সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
আমির খসরু ও ইয়ংওয়ান কর্পোরেশন ও কোরিয়ান ইপিজেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী (সিই) কিহাক সুং শিক্ষার্থীদের হাতে স্কলারশিপ সনদ বিতরণ করেন।
সিআইইউয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমএম নুরুল আবসারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কোরিয়ান ইপিজেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্ণেল (অব.) মোহাম্মদ শাহজাহান। বক্তব্য দেন কিহাক সুং, সিআইইউর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান লুৎফি এম আইয়ুব এবং সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক প্রমুখ।
সিআইইউর সহকারী রেজিস্ট্রার কমা দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ইয়ংওয়ান কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ শাহিনুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইয়ংওয়ান কর্পোরেশন ও সিআইইউর মধ্যকার এক সমঝোতা স্মারক চুক্তির বাস্তব রূপায়নে ইয়ংওয়ান কর্পোরেশন সিআইইউর শিক্ষার্থীদের জন্য বার্ষিক স্কলারশিপের অংশ হিসেবে এক কোটি ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা দেয়। এই স্কলারশিপের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিএসসি ইন ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রাম এবং ব্যবসায় অনুষদের বিবিএ প্রোগ্রাম থেকে মোট ১৬জন শিক্ষার্থীকে বিশেষ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্কলারশিপের জন্য নির্বাচন করা হয়।
















